নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি [ শেষের পাতা ] 17/07/2017
জুয়েলারি শিল্পের জন্য নীতিমালা হচ্ছে
নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি
ওবায়দুল্লাহ রনি:

জুয়েলারি শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে আবারও নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে স্বর্ণ, রৌপ্য, ডায়মন্ড, পাথরসহ মূল্যবান ধাতু আমদানি সহজ করা হবে। আমদানির আড়ালে কেউ যেন অর্থ পাচার বা জালিয়াতি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার কয়েকটি ব্যাংক ঠিক করে দেবে। সরকার নির্ধারিত ওইসব ব্যাংকের মাধ্যমেই জুয়েলারি শিল্পে ব্যবহৃত স্বর্ণ ও কাঁচামাল আমদানি করতে হবে।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরির আগে এ বিষয়ে লিখিত মতামত চেয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গত মে মাসে আপন জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আমদানির অভিযোগে ৪৯৮ কেজি স্বর্ণ আটকের পর নীতিমালা করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। আপন জুয়েলার্সে অভিযান চালানোর প্রতিবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটও ডাকেন। এবারের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জুয়েলারি শিল্পের নীতিমালা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, স্বর্ণ অবাধে আমদানিযোগ্য কোনো পণ্য নয়। নীতিমালা না থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে যে কোনো পরিমাণের স্বর্ণ আমদানি করার সুযোগ রয়েছে। যদিও আজ অবধি দেশের কোনো ব্যবসায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে এলসি খুলে বাণিজ্যিকভাবে এক তোলা স্বর্ণও আমদানি করেননি। যা এসেছে তার সবই আনা হয়েছে চোরাই পথে অথবা ব্যাগেজ রুলসের আওতায়। বিদ্যমান নিয়মে ব্যাগেজ রুলসের আওতায় দেশের বাইরে থেকে আসার সময় একজন ব্যক্তি একশ' গ্রাম বা সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার বিনাশুল্কে আনতে পারেন। আর যে কোনো ব্যক্তি ২৩৪ গ্রাম বা ২০ ভরি স্বর্ণবার আনতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি গ্রামে শুল্ক দিতে হয় তিন হাজার টাকা।

জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত অনেকেই নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির পক্ষে মত দেন। তাদের মতে নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি করা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি অলঙ্কার রফতানি করার পর আবার আমদানির অনুমতি পাবে। নির্দিষ্ট ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী কী পরিমাণ স্বর্ণ আমদানি ও রফতানি করছে তার হিসাব রাখবে। কোনো অসঙ্গতি পেলে ওই ব্যাংক সে বিষয়ে রিপোর্ট করবে। প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার পর সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর নীতিমালা করার কথা জানিয়ে বলেন, জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদিত পণ্যের ২০ শতাংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করবে। বাকি ৮০ শতাংশ রফতানি করবে। এতে অভ্যন্তরীণ ও রফতানি উভয় বাজার উপকৃত হবে। এজন্য প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জুয়েলারি সমিতির প্রতিনিধিসহ সাতটি সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে মতামত দেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রতিনিধিও ছিলেন। জুয়েলারি খাতের সম্ভাবনা ও বিদ্যমান বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রতিটি সংস্থা থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত মতামত চাওয়া হয়।

স্বর্ণ বার আমদানি করে অলঙ্কার রফতানির লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে একটি নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত ওই নীতিমালায় বৈধ ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিকভাবে স্বর্ণ আমদানির অনুমতি দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে ওয়্যার হাউসে স্বর্ণ রাখার প্রস্তাব করা হয়। তবে এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই নীতিমালা আর আলোর মুখ দেখেনি। চোরাই পথে আনা স্বর্ণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

নীতিমালার উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা সমকালকে বলেন, নীতিমালা না থাকায় জুয়েলারি খাতের আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না। নীতিমালা করার বিষয়ে এবারের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সুস্পষ্ট ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা হবে কি-না সে বিষয়ে এখনও তাদের সংশয় কাটেনি। নীতিমালা ছাড়াও এ খাতের জন্য একটি আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চলের দাবি করে তিনি বলেন, বিদ্যমান শুল্ক কমানোসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জুয়েলারি শিল্প অনেক বড় রফতানি খাতে পরিণত হবে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• নারী ও নতুন উদ্যোক্তার মাঝে ঋণ বিতরণ কমেছে
• জালিয়াতি ঢাকতে জালিয়াতি
• ছয় মাসে ৮৩ হাজার কোটি টাকার এমএমই ঋণ বিতরণ
• বিশেষ উদ্দেশ্যের ব্যাংক মুখ থুবড়ে পড়ছে
• মজুদদারিতে ব্যাংকের হাত
• ব্যাংকে গোপন সুদের ভয়াবহ ফাঁদ
• গ্রামীণ ব্যাংকের পর্ষদ সভা হচ্ছে না আড়াই বছর ধরে
• মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পুনর্নির্বাচিত
• ১৫% ভ্যাট দিতে হবে এনজিওদের
• এমটিবি এবং তিতাস গ্যাস ট্র্যান্সমিশন এ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে-এর মধ্যে অনলাইনে গ্যাস বিল সংগ্রহ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters