চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজটের মাসুল ব্যবসায়ীদের [ প্রথম পাতা ] 30/07/2017
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজটের মাসুল ব্যবসায়ীদের
আসিফ সিদ্দিকী :

চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যাপক জাহাজজটের কারণে বিদেশি জাহাজ মালিকরা বাড়তি মাসুল আদায় করছে। আগে জাহাজ পরিচালনাকারী বিদেশি অপারেটরদের সংগঠন একসঙ্গে ঘোষণা দিয়ে মাসুল ঠিক করে আদায় করলেও এবার কৌশল বদলেছে। কৌশলের অংশ হিসেবে কোনো শিপিং কম্পানি ‘পোর্ট কনজেশন সারচার্জ’ আবার ‘ইমারজেন্সি কস্ট রিকভারি সারচার্জ’ এবং ‘বাড়তি মাসুল’ নাম দিয়ে আদায় করছে।

নতুন মাসুল অনুযায়ী, পণ্যভর্তি প্রতিটি কনটেইনার পণ্য পরিবহনে বাড়তি ১৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ১২ হাজার ৩০০ টাকা এবং খালি কনটেইনার পরিবহনে ৭৫ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় ছয় হাজার ১৫০ টাকা করে আদায় করছে। সিঙ্গাপুর বন্দর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং বন্দর এবং চীনের সাংহাই, নিমবো, গুয়াংজো ও শেনজেন বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী কনটেইনার আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বাড়তি মাসুল গুনতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরে জটের কারণে বাড়তি মাসুল আরোপের ফলে রপ্তানি পণ্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। আমদানি পণ্যে বাড়তি মাসুল যোগ হয়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে। আমদানি পণ্যের এ বাড়তি ভাড়া কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোক্তার পকেট থেকেই কাটা যাবে। ফলে এখনই দ্রুত পরিস্থিতি উন্নয়নে বন্দরকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

জানা গেছে, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জাহাজ কম্পানি মায়েসর্ক লাইনের সহযোগী সংস্থা এমসিসি ট্রান্সপোর্ট সিঙ্গাপুর লিমিটেড চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজটের কথা উল্লেখ করে গত ১৫ জুন থেকে ‘ইকুইপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইমপোর্ট সারচার্জ’ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয়, চীনসহ উত্তর এশিয়া ও পূর্ব রাশিয়া থেকে চট্টগ্রামমুখী জাহাজে প্রতি কনটেইনারে ৬০০ মার্কিন ডলার আদায় করা হবে। গত বছরের ১০ নভেম্বর থেকে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪৫০ ও ৪০০ ডলার। এর ফলে পণ্যভর্তি কনটেইনার পরিবহনে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ মার্কিন ডলার। এরই মধ্যে সেটি আদায় করতে শুরু করেছে। চট্টগ্রামমুখী কনটেইনার পরিবহনে এমসিসি ট্রান্সপোর্ট হচ্ছে শীর্ষস্থানীয় কম্পানি। তাদের সারচার্জ আরোপের পর কোনো হৈচৈ না থাকায় জাহাজ পরিচালনাকারী অন্য অপারেটররাও মাসুল আদায় শুরু করে। এ বিষয়ে মায়েসর্ক লাইনের মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার আলম চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক জাহাজ পরিচালনাকারী কয়েকটি কম্পানির জোট এশিয়ান ফিডার ডিসকাশন গ্রুপ (এএফডিজি) গত ১৯ জুন চট্টগ্রামমুখী জাহাজে কনটেইনার পরিবহনে ১৫০ মার্কিন ডলার বাড়তি ভাড়া আরোপের ঘোষণা দেয়। তারা এই বাড়তি মাসুলের নামকরণ করেছে ‘ইমারজেন্সি কস্ট রিকভারি সারচার্জ’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে চট্টগ্রামমুখী কনটেইনার পরিবহনে সারচার্জ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে আরো কয়েকটি জাহাজ কম্পানি।

এদিকে গত ২৬ জুলাই থেকে সরাসরি ‘পোর্ট কনজেশন সারচার্জ’ আরোপ করেছে ফ্রান্সভিত্তিক জাহাজ পরিচালনাকারী কম্পানি ‘সিএমএ-সিজিএম’। ১৮ জুলাই থেকে আমদানি-রপ্তানীকৃত শুকনো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সব ধরনের কনটেইনারে এই সারচার্জ আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু সেটি কার্যকর করা হয়েছে গত ২৬ জুলাই থেকে।

জানতে চাইলে সিএমএ-সিজিএমের মহাব্যবস্থাপক ওয়াহিদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়েক মাস আগে থেকেই এ ধরনের মাসুল আদায় নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল। দেশের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমরা মাসুল আরোপে সায় দিইনি। কিন্তু বিদেশি কর্তৃপক্ষ এখনো আমাদের এই বিষয়ে কোনো চিঠি দেয়নি। তবে ওয়েবসাইটে নির্দেশনা আছে। ’

ওয়াহিদ আলম বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে বিষয়টির নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে কেন্দ্রীয় অফিসে অবহিত করেছি। তারাও বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। ’

জানা গেছে, বাড়তি মাসুল আরোপের ফলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছে।

জানতে চাইলে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চিটাগাংয়ের প্রেসিডেন্ট এস এম আবু তৈয়ব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমনিতেই চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজটের কারণে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা চরম উদ্বিগ্নের মধ্যে, সঠিক সময়ে পণ্য উৎপাদন করে জাহাজীকরণ নিয়ে শঙ্কায় আছে। এ অবস্থায় নতুন করে মাসুল আরোপ অস্থিরতা তৈরি করবে। আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আরো পিছিয়ে পড়ব।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• আইসিডি : বন্দর চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে সাংসদদের বিরোধিতা
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters