বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমেছে ৭২ হাজার টন [ শিল্প বাণিজ্য ] 30/07/2017
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমেছে ৭২ হাজার টন
সদ্যসমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমেছে আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭২ হাজার টনেরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের ফর্কলিফট ও ক্রেন অকেজো পড়ে থাকার ফলে সৃষ্ট পণ্যজট ও আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে গত অর্থবছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পণ্য আমদানি কমলেও এ সময় স্থলবন্দরটি থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ বেড়েছে বলে স্থানীয় কাস্টম হাউজ সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ২১১ দশমিক ৫ টন। অন্যদিকে এর আগের অর্থবছরে এ আমদানির পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৬ দশমিক ৯২ টন। অর্থাত্ গত অর্থবছরে স্থলবন্দরটি দিয়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭২ হাজার ২৩৬ দশমিক ৮৭ টন পণ্য কম আমদানি হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এখান দিয়ে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এ সময় এখান দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৯৭ হাজার ৯০৮ দশমিক ১৮ টন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানি হয়েছে গত বছরের নভেম্বরে। এ সময় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ৭৮ দশমিক ৪৯ টন।

অন্যদিকে স্থলবন্দরটি দিয়ে এ সময় সবচেয়ে কম পণ্য আমদানি হয়েছে গত বছরের জুলাইয়ে। ওই সময় স্থলবন্দরটি ব্যবহার করে ৫৩ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৪২ টন পণ্য আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। আমদানির পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বনিম্নে নামে গত বছরের সেপ্টেম্বরে। এ সময় স্থলবন্দরটি দিয়ে পণ্য আমদানি হয় ৫৫ হাজার ৩৫৩ দশমিক ১২ টন।

জানা গেছে, দেশের বৃহত্ স্থলবন্দর বেনাপোলের অধিকাংশ ক্রেন ও ফর্কলিফট অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের মালপত্র খালাস প্রক্রিয়া। আমদানিকারকরা বন্দর থেকে সময়মতো তাদের পণ্য খালাস করতে না পারায় বন্দরে পণ্যজটের সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের গুদাম থেকে পণ্য বের করার পরই নতুন পণ্য প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এ স্থানসংকটের কারণে পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে থাকছে দিনের পর দিন। ট্রাক থেকে পণ্য নামানোর অনুমতি মিললেও মালপত্র আনলোডের জন্য ক্রেন মিলছে না। ফলে স্থান ও ক্রেন সংকটে বিপাকে পড়ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বিশেষ করে মেশিনারিসহ ভারী মালপত্র লোড-আনলোডের সময় সিরিয়াল দিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করে থাকতে হয়।

স্থলবন্দরটির বর্তমান আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, আমদানিকারকরা কমপক্ষে দুই মাস আগে পণ্য আমদানির এলসি খুলে থাকেন। যে কারণে গত মাসে ঘোষণাকৃত পণ্য তারা এখন আনতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু কাস্টমস জোর করে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক দ্বিগুণ করে দিচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাদের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। যে কারণে পরবর্তীতে এলসি দিতে পারছেন না। যার প্রভাব দেখা যাবে সামনের দিনগুলোয়। এসব হয়রানি বন্ধ ও বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবিকৃত ক্লিয়ারিং হাউজ চালু হলে এখান দিয়ে পণ্য আমদানি ও রফতানির পরিমাণ আরো বাড়বে।

পণ্য আমদানি কমলেও গত অর্থবছরে স্থলবন্দরটি থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে স্থলবন্দরটি থেকে লক্ষ্যের চেয়ে ৫৪ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এখান থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণ লক্ষ্য ছিল ৩ হাজার ৭৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮১৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘স্থলবন্দরটি দিয়ে উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি বেড়েছে। যে কারণে রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে। তাছাড়া আমদানি বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ারও চেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে তারা হয়রানি ছাড়া পণ্য আনতে পারেন। বেনাপোলকে আরো গতিশীল করতে অটোমেশন চালু করা হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একযোগেই কাজ করে চলেছি।’

অন্যদিকে যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘কাস্টমসের শুল্কহার বাড়ানোর কারণে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সরকার শুল্কহারের যৌক্তিকীকরণ করলে এখান দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ আরো বাড়তে থাকবে।’
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters