Hawker.com.bd     SINCE
 
 
 
 
ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য এখন ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা [ প্রথম পাতা ] 12/08/2017
ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য এখন ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা
বিনিয়োগ না হওয়ায় বাড়ছে না ঋণ চাহিদা
ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ না নেওয়ায় এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমায় উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা- যা এক বছর আগে ছিল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় বাড়ছে না ঋণ চাহিদা। আর আশানুরূপ ঋণ চাহিদা না থাকায় ব্যাংকগুলোর কাছে প্রচুর তারল্য জমা হচ্ছে। এছাড়া গত দু’বছরে বড় লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে কার্যত কোনো ঋণ নিচ্ছে না। এতে বিপুল পরিমাণের অর্থ ব্যাংকের কাছে থেকে যাচ্ছে। যদিও তারল্যের বড় অংশ স্বল্প সুদের বন্ড ও বিলে বিনিয়োগ করা আছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিনিয়োগ করতে না পারায় ব্যাংকগুলোর কাছে উদ্বৃত্ত তারল্য জমা হচ্ছে। এসব অর্থের বিপরীতে তারা নিয়মিত সুদ গুনলেও কোনো আয় আসছে না। এমন পরিস্থিতিতে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়ে আমানতের সুদ কমিয়ে দিচ্ছে তারা। এতে আমানতকারীরাও সমস্যায় পড়ছেন। এ অবস্থায় সরকারকে অবশ্যই বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। যাতে দেশের ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে বিনিয়োগ করতে পারেন। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা এখনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালানাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকগুলো এ সময়ে সংরক্ষণ করেছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। অথচ এক বছর আগে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ অচলাবস্থার পর গত অর্থবছরের শুরুতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বেড়েছিল। কিন্তু সে ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি। গত অক্টোবর ও নভেম্বর থেকে ঋণ প্রবাহ কমে যায়। এরপর সামান্য বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার কোনো ঋণ গ্রহণ করছে না। মূলত রেকর্ড পরিমাণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হওয়ায় সরকারের বাজেট ঘাটতি মেটাতে এখন আর ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে না। এতে বিপুল পরিমাণের টাকা ব্যাংকের ভল্টে থেকে যাচ্ছে। যা উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

ব্যাংকগুলোর কাছে যে পরিমাণের অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে, তার বড় অংশ স্বল্পসুদে সরকারের বন্ড ও বিলে বিনিয়োগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের বিলে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো আড়াই শতাংশেরও কম সুদে এ অর্থ ৭ দিন, ১৪ দিন ও ৩০ দিন মেয়াদে বিনিয়োগ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকগুলো জনগণের কাছ থেকে বর্তমানে কমপক্ষে ৫ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। কিন্তু বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় আমানতের চেয়ে অর্ধেক কমে টাকা রেখে কিছু আয় করার চেষ্টা করছে তারা। ঋণের চাহিদা থাকলে এভাবে টাকা কেউ ফেলে রাখে না। সে জন্য সরকারের বন্ড ও বিলের বিনিয়োগকেও তারল্য হিসেবে গণ্য করা হয়।   

বাংলাদেশ ব্যাংকের অপর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুন মাসে ব্যাংকগুলো জনগণের কাছ থেকে গড়ে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। অথচ ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এই হার ছিল গড়ে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। ব্যাংকের আমানতে সুদহার কমতে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও ব্যাংকগুলোর কোনো সাড়া নেই। যদিও এ সময়ে আমানতের সুদহার কমার সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদও কিছুটা কমেছে। সর্বশেষ জুন মাসে ব্যাংকের ঋণ বিতরণে গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters