কৌশলগত সমীক্ষা ছাড়া শিল্পকারখানা নয় [ সম্পাদকীয় ] 12/08/2017
সুন্দরবন ধ্বংসে নতুন আঘাত
কৌশলগত সমীক্ষা ছাড়া শিল্পকারখানা নয়
সুন্দরবনের পাশের এলাকায় রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ স্থাপনের পর থেকে এর বিরুদ্ধে প্রবল বিতর্ক চলছে। বিভিন্ন মহলের বক্তব্য হচ্ছে, রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের ধ্বংস ডেকে আনবে। কিন্তু সরকার এ কথা স্বীকার করতে নারাজ। তবে এর বিরোধিতাও থেমে থাকেনি। সরকারও যেন মরিয়া হয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও সুন্দরবনের আশপাশে নানা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমতি দিয়ে সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে চাইছে।
জানা গেছে, সুন্দরবনের লাগোয়া এলাকায় ৩২০টি শিল্পকারখানা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় পরিবেশ কমিটি। এসব কারখানার অনেকগুলোই মারাত্মক পরিবেশ দূষণকারী। বনঘেঁষা ওই এলাকায় এমন উদ্যোগ আইনত নিষিদ্ধ। সম্প্রতি ইউনেস্কোও বলেছেÑ কৌশলগত সমীক্ষা (এসইএ) ছাড়া এখানে ভারী শিল্প ও স্থাপনা করা যাবে না। অথচ গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় পরিবেশ কমিটির চতুর্থ সভায় এসব কারখানা নীতিগত অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

১৯৯৯ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সুন্দরবনের চার পাশের ১০ কিলোমিটার এলাকাকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) বা পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। এ এলাকায় কলকারখানাসহ যেকোনো উন্নয়ন কাজ করার আগে বন ও বনের প্রাণীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নানা ধরনের শর্ত দিয়ে বিধি তৈরি করা হয়। কিন্তু এ বিধির কোনো তোয়াক্কা না করে এই ইসিএ এলাকায় উল্লিখিত কারখানাগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগ থেকেই অবশ্য ওই এলাকায় ১৮৬টি শিল্পকারখানা ছিল। পরিবেশবিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি এসব কারখানাকে বৈধ করে অনুমোদন দিতে বলেছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ইসিএ এলাকায় কারখানা স্থাপনের ব্যাপারে কিছু বিধি ও নীতি পরিবর্তন ও নমনীয় করার ব্যাপারে।

ইসিএ এলাকায় কারখানাগুলো অনুমোদনের সরকারি পদক্ষেপটি এমন এক সময় এলো, যখন ইউনেস্কো সরকারের কাছে সুপারিশ রেখেছেÑ কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা ছাড়া সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কোনো শিল্পকারখানা বা বড় স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য। সরকার ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের বৈঠকে এই সমীক্ষা চালানোর ব্যাপারে সম্মত হয়। এ দিকে তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এ ব্যাপারে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধিকে বলেছেন, সরকার পরিবেশ ও সুন্দরবন রক্ষায় করা নিজের আইন পদে পদে ভঙ্গ করছে। একই সাথে তারা দেশের জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে সুন্দরবন রক্ষায় যেসব অঙ্গীকার করেছে, তারও বরখেলাপ করছে। এসব আইন ভাঙার অনুমোদন যেভাবে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে দেয়া হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, এই সরকারের কাছে দেশের সুন্দরবন ও পরিবেশ নিরাপদ নয়।

আমরা মনে করি, সুন্দরবন রক্ষায় আমাদের জাতীয়ভাবে অধিকতর সচেতনতা প্রদর্শন করতে হবে। কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা ছাড়া সুন্দরবনের লাগোয়া পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকায় কোনো ধরনের কারখানা বা বড় ধরনের কাঠামো স্থাপনের অনুমতি যেন দেয়া না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভুললে চলবে না, একবার সুন্দরবন ধ্বংস হলে তা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• ঝুঁকি ও চাপের মুখে সামষ্টিক অর্থনীতি
• বিশ্বব্যাংকের নারী উদ্যোক্তা তহবিলে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের অনুদান
• আমদানি নীতি আরও সহজ চায় এফবিসিসিআই
• বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিনগুণ
• আমদানি নীতিমালা আরও সহজ চায় এফবিসিসিআই
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters