বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড জেটিসি বৈঠক : বাণিজ্যের পরিধি দাঁড়াবে ২০০ কোটি ডলার [ অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য ] 12/08/2017
বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড জেটিসি বৈঠক : বাণিজ্যের পরিধি দাঁড়াবে ২০০ কোটি ডলার
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্যের আকার দাঁড়াবে ২০০ কোটি ডলার। বর্তমান দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের আকার প্রায় ১০০ কোটি ডলার। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড যৌথ বাণিজ্য কমিশনের (জেটিসি) বৈঠকে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড জেটিসি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। থাইল্যান্ডের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী আপিরাদে তানট্রাপর্ন। গত বুধবার দুই দেশের যৌথ বাণিজ্য কমিশনের চতুর্থ দফার বৈঠকটি শুরু হয়। প্রথম দিনের বৈঠকে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু ও থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড নেগোশিয়েসনের মহাপরিচালক বুনায়ারিত কালায়েনামিত নেতৃত্ব দেন। এতে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আপিরাদে তানট্রাপর্ন বলেন, উভয় দেশের বাণিজ্য উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের আকার ২০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। শুধু বাণিজ্য নয়, এ দেশে বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়াবেন থাইল্যান্ডের উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে মৎস্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, কৃষি ও হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে অবদান রাখতে চান তারা। থাই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ সম্পন্ন করার বিষয়ে সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এর আগে পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড সঙ্গে উপক‚লে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশের সম্মতিতে এ চুক্তি সই হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের ৯৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে মাত্র ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য। বিদ্যমান প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য বাড়িয়ে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, পাট পণ্যসহ ৩৬টি পণ্য থাইল্যান্ডে রপ্তানি শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি ও মৎস্য খাত প্রযুক্তি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে এফটিএ সম্পন্ন করার জন্য সম্ভব্যতা যাচাই করা হবে। বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিএসটিআইর মান সনদকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে উভয় দেশ সম্মত হলে সমঝোতা চুক্তি সই হবে। তিনি আরো বলেন, থাই উদ্যোক্তাদের দেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে থাইল্যান্ডের শতাধিক কোম্পানির বাংলাদেশে ১৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে।

জানা গেছে, জেটিসির পরবর্তী বৈঠক থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের বৈঠক চার বছর পর অনুষ্ঠিত হলেও আগামী বৈঠক দুই বছর পর করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। বৈঠকে থাইল্যান্ডের সঙ্গে চাল আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, দেশের চাহিদা অনুযায়ী থাইল্যান্ড থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন চাল আমদানি করা হবে। এ চাল ২০২১ সাল পর্যন্ত আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের পক্ষে খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম ও থাইল্যান্ডের পক্ষে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী আপিরাদে তানট্রাপর্ন এ চুক্তিতে সই করেন।অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চাল আমদানি চুক্তির ফলে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন চাল থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা যাবে। তবে আমাদের যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু আমদানি করা হবে। এটা এক লাখ টনও হতে পারে, আবার পাঁচ লাখ টনও হতে পারে। আমদানিতে চালের দাম নির্ধারণের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করা হবে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত এক্সপ্রেস শিপমেন্ট কুরিয়ার
• যুক্তরাজ্যে রফতানিতে ব্রেক্সিটের ধাক্কা
• সাত বছরে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি
• দ্রুত উন্নয়নকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
• দেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে বাড়ছে মানুষের সক্ষমতা
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters