থামল পুঁজিবাজার সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা [ অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য ] 13/09/2017
সিএসইর সাথে থাই স্টকের সমঝোতা স্মারক
থামল পুঁজিবাজার সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
দু’দিন টানা বৃদ্ধির পর থেমেছে পুঁজিবাজার সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। গতকাল সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই একই ঘটনা ঘটে। ব্যাংকিং খাাতের শতভাগ কোম্পানিসহ উভয় বাজারের লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ খাত দরপতনের শিকার হলে মিশ্র প্রবণতায় আটকে যায় বাজারগুলো। উভয় বাজারেই প্রধান সূচকের অবনতি ঘটলেও উন্নতি ধরে রাখে বিশেষায়িত সূচকগুলো।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৬ দশমিক ২৮ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৬ হাজার ১৬৭ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিনশেষে নেমে আসে ৬ হাজার ১৫১ দশমিক ২০ পয়েন্টে। তবে একই সময় ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের উন্নতি হয় যথাক্রমে ৭ দশমিক ৩৪ ও ৩ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচক হারায় যথাক্রমে ৪২ দশমিক ৫১ ও ২৩ দশমিক ৭২ পয়েন্ট। এখানে সিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
সূচকের মিশ্র প্রবণতা প্রভাবিত করে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনকেও। ঢাকায় গতকাল এক হাজার ১৫২ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা আগের দিন অপেক্ষা ১০৭ কোটি টাকা কম। রোববার ডিএসই’র লেনদেন ছিল এক হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। তবে গতকাল ১৩৯ কোটি টাকার ব্লক মার্কেটে লেনদেন করে ডিএসই, যা মধ্যে এককভাবে ১০২ কোটি টাকার লেনদেন ছিল স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের। এ টাকায় গতকাল কোম্পানিটির ৩ কোটি ২ লাখ শেয়ার ব্লক মার্কেটে হাতবদল হয়।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ৭১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা আগের দিন অপেক্ষা ছয় কোটি টাকা কম। রোববার বাজারটির লেনদেন ছিল ৭৭ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে এককভাবে ১৮ কোটি টাকা লেনদেন করে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড।

এ দিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং দি স্টক এক্সচেঞ্জ অব থাইল্যান্ডের (এসইটি) মধ্যে সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষর হয়। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব এক্সচেঞ্জের বার্ষিক এসেম্বলি উপলক্ষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিদলের ব্যাংকক সফরকালে এই সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষর হয়। সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সমঝোতাস্মারকে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো তথ্য আদান-প্রদান, ট্রেনিং ও কর্মকর্তা বিনিময় প্রোগ্রাম, বিভিন্ন সেবা এবং পণ্যবিষয়ক ধারণার উদ্ভাবন, আদান-প্রদান ও উন্নয়ন, বিনিয়োগ বিস্তার এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণের ব্যাপারে সহযোগিতা এবং যেকোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শীর্ষ নির্বাহী মিস কেসারা মানচুসরি এবং এম সাইফুর রহমান মজুমদার সমঝোতাস্মারকে স্বাক্ষর করেন। ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিএসই’র চেয়ারম্যান ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মো: নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নিউজিল্যান্ড স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান জেমস মিলার এবং মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট পারভীন কুমার সিংগালের সাথে ব্যাংককে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন।

আগে দিনগুলোর ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালেও সূচকের উন্নতি দিয়েই লেনদেন শুরু হয় দুই পুঁজিবাজারে। ঢাকায় ডিএসইএক্স সূচকটি ৬ হাজার ১৬৭ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে বেলা ১১টায় পৌঁছে যায় ৬ হাজার ১৯৪ পয়েন্টে। তবে বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে সূচকের এ প্রবণতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বেলা সোয়া ১১টায় সূচকটি নেমে আসে ৬ হাজার ১৭৬ পয়েন্টে। দ্রুতই এ চাপ সামলে নেয় বাজারটি। দুপুর ১২টায় সূচকটি আবার পৌঁছে যায় ৬ হাজার ১৯৮ পয়েন্টে। লেনদেনের এ পর্যায়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয় এবং লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। দিনশেষে সূচকটির ১৬ দশমিক ২৮ পয়েন্ট অবনতি হয়।

দুই পুঁজিবাজারে বেশির ভাগ খাতে দরপতন ঘটে গতকাল। ব্যাংক ছাড়াও কয়েকটি খাতে দর হারায় শতভাগ কোম্পানি। সিমেন্ট, রসায়ন ও মিউচুয়াল ফান্ড এ তিনটি খাতেই মূল্যবৃদ্ধি হয় বেশির ভাগ কোম্পানির। বাকি খাতগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রবণতা দেখা যায় টেক্সটাইল, নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, খাদ্য ও বিবিধ খাতে। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২২টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৭০টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৭৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১০১টির দাম বাড়ে ১৪২টির কমে ও ৩০টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

ঢাকা শেয়ারবাজারে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স। ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৭১ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায় ৫১ লাখ ৮৯ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ছিল দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি। ডিএসসির লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে স্কয়াার ফার্মাসিউটিক্যালস, সিএমসি কামাল, প্রিমিয়ার ব্যাংক, যমুনা অয়েল, সিটি ব্যাংক, ফরচুন স্যুজ, বেক্সিমকো লিমিটেড ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ ডিএসইতে
• ইবনে সিনার এজিএম বুধবার
• বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাচ্ছে নাভানার এলপিজি প্রকল্প
• টানা তিন সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters