Hawker.com.bd     SINCE
 
 
 
 
খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর তাগিদ [ অর্থ-বাণিজ্য ] 13/09/2017
রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক
খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর তাগিদ
শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে আশানুরূপ অর্থ আদায় করতে পারছে না রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংক। ফলে গত জুন শেষে ব্যাংক চারটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে চার ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছেই আটকে আছে ৯ হাজার ১০৩ কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৩৪ শতাংশ। ব্যাংক চারটি হলো সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী।

খেলাপি ঋণের প্রভাব পড়ছে ব্যাংকগুলোর সার্বিক সূচকেও। তাই ব্যাংকগুলোর সূচক উন্নয়নে খেলাপি ঋণ কমাতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি ঋণের গুণগত মান বাড়ানো ও সুশাসন জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চার ব্যাংকের সঙ্গে জুনভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে সমঝোতা স্মারকবিষয়ক এক সভা হয়। এতেই এসব তাগিদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানসহ চার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা (এমডি) উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এমডিদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য নির্দিষ্ট খাতে ও বড় গ্রুপের কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূত করা যাবে না। ঋণ কেন্দ্রীভূত হলে পুরো খাতে ঝুঁকি তৈরি হবে।

সভায় উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে চার ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। এসব ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ২৬ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এক বছর আগে ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ২ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ২৩ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল।

জুনে সোনালী ব্যাংকের ১১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা বা ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ খেলাপি। জনতার ৩৮ হাজার ১০৪ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৫ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা, অগ্রণীর ২৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৪ হাজার ৯০৪ কোটি এবং রূপালী ব্যাংকের ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বা ৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ঋণখেলাপি।

ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে শুধু শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকে আছে ৯ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। গত জুনে সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। জনতার ২ হাজার ২১৮ কোটি, অগ্রণীর ১ হাজার ১৬৯ কোটি এবং রূপালী ব্যাংকের ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকা আটকে আছে নিজ নিজ ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে।

এরই মধ্যে চার ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটাতে মূলধন জোগান দিয়ে আসছে সরকার। গত চার অর্থবছর এসব ব্যাংকে ৫ হাজার ২১০ কোটি টাকার মূলধন জোগান দেওয়া হয়েছে। এরপরও সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি ৭৪১ কোটি টাকা।

রাতে যোগাযোগ করা হলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান প্রথম আলোকে বলেন, যেসব সূচকে অবনতি হয়েছে, তা উন্নতির তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সমঝোতা অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নির্দেশও দিয়েছে, বিশেষ করে খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যাপারে। শীর্ষ খেলাপিদের থেকে ঋণ আদায়ে বিশেষ তাগিদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ যাতে কেন্দ্রীভূত না হয়, এদিকেও লক্ষ রাখতে বলেছে।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল-ইসলাম বলেন, ঋণ আদায় বাড়াতে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যাতে আর্থিক সূচকের উন্নতি হয়।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters