কারখানা চালুর অপেক্ষায় খুলনা প্রিন্টিং [ শেয়ারবাজার ] 14/09/2017
কারখানা চালুর অপেক্ষায় খুলনা প্রিন্টিং
সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের (কেপিপিএল) দ্বন্দ্বের অবসান হচ্ছে। এনবিআরের বিরুদ্ধে কোম্পানির দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে নিয়ম পরিপালনের শর্তে কেপিপিএলের গুদাম, বন্ড লাইসেন্স এবং বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এটি হলে শিগগিরই কারখানা চালুর ব্যাপারে আশাবাদী কেপিপিএলের কর্মকর্তারা।

কেপিপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, কেপিপিএলের গুদাম ও বিআইএন খুলে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়। পরবর্তীতে কেপিপিএলের উদ্যোগে এনবিআরের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক শেষে উভয়পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এনবিআর এরই মধ্যে কোম্পানির গুদাম খুলে দিয়েছে। কাঁচামাল আমদানি ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিআইএন এবং বন্ড লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। নতুন বিআইএন হাতে পেলেই উত্পাদনে যাবে কেপিপিএল।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত মাসে ঢাকায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে কোম্পানি ও এনবিআরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লকপুর গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও কেপিপিএলের এমডি, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট খুলনার কমিশনার, এনবিআরের মূসক নিরীক্ষা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অংশ নেন। সভায় লকপুর গ্রুপ ও কেপিপিএলের কারখানা চালু করতে আইনি বাধা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর পর এনবিআরের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্থ-সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় কেপিপিএল। এরই মধ্যে তারা মামলাটি প্রত্যাহার করেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির স্থগিত থাকা বিআইএন আনলক করা, বন্ড লাইসেন্স নবায়ন ও গুদাম খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর।

এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঈনুল খান বলেন, সরকারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের মধ্যে থেকেই সব কাজ করতে হয় এনবিআরকে। এনবিআরের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়মের কারণে তাদের বিআইএন ও বন্ড লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এনবিআর সবসময়ই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পক্ষে। কোম্পানির বিদ্যমান সমস্যা শিগগিরই সমাধান হবে বলে বিশ্বাস এ কর্মকর্তার।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনবিআরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে ২০১৫ সালের শুরু থেকেই কাঁচামাল আমদানি করতে পারেনি কেপিপিএল। প্রায় দুই বছর স্থানীয় কোম্পানি থেকে কাঁচামাল কিনে কারখানা চালু রাখলেও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সমস্যা সমাধান হলেই যেকোনো সময় কারখানা চালু করতে প্রস্তুত রয়েছে কেপিপিএল কর্তৃপক্ষ।

কোম্পানির এমডি এ প্রসঙ্গে বলেন, নবায়নকৃত বন্ড ও বিআইএন লাইসেন্স হাতে পেলেই কারখানায় উত্পাদন শুরু করা যাবে। গুদামে এখনো বেশকিছু কাঁচামাল মজুদ রয়েছে। নতুন কাঁচামাল আমদানি করতেও প্রস্তুতি রয়েছে কোম্পানি। দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলেও পণ্য বিক্রয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অনুমোদন ছাড়া বন্ডেড ওয়্যার হাউজ সম্প্রসারণ ও বার্ষিক উত্পাদন ক্ষমতার অতিরিক্ত কাঁচামাল সংরক্ষণ করায় কেপিপিএলের বিরুদ্ধে ২৭১ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তোলে এনবিআর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল কোম্পানিকে জরিমানাও করে রাজস্ব আহরণের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি। জরিমানা পরিশোধ না করলে ওই বছরের ২৫ আগস্ট থেকে খুলনায় প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি গুদাম সিলগালা করে দেয় এনবিআর। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এনবিআরের জরিমানার আদেশ ও সিলগালার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি এনবিআরের পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। একই সঙ্গে এলসির মাধ্যমে আনা পণ্য ১৫ দিনের মধ্যে খালাসেরও নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত। ওই সময় কোম্পানির গুদাম ও কারখানা খুলে দিলেও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় কোম্পানিটিকে নতুন করে কাঁচামাল আমদানির অনুমতি দেয়নি এনবিআর। ছাড় করা হয়নি আগে আমদানি করা কাঁচামালও। ফলে স্থানীয় কাঁচামাল দিয়েই উত্পাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল কোম্পানিটি। তবে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কারখানা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় কেপিপিএল কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কেপিপিএলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৭ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩০ পয়সা। ৩১ মার্চ পুনর্মূল্যায়নজনিত উদ্বৃত্তসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৬ টাকা ৮৫ পয়সা।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কেপিপিএল। সর্বশেষ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস হয়েছে ৩৩ পয়সা। এর আগে ২০১৫ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তখন বার্ষিক ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫১ পয়সা।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• ডিএসইর লেনদেন ৫০০ কোটির ঘরে
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters