লিজে আনা দুই উড়োজাহাজ ফেরত দিচ্ছে বিমান [ শেষের পাতা ] 14/09/2017
বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর
লিজে আনা দুই উড়োজাহাজ ফেরত দিচ্ছে বিমান
অবশেষে মিসরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে ড্রাই লিজে আনা দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই উড়োজাহাজ দুটি ফেরতের প্রক্রিয়ায় সহায়তা পেতে পরামর্শক খুঁজছে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থাটি। মূলত অব্যাহত লোকসান ঠেকাতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বিমান।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ ফেরত দিতে গত ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে বিমান। বিমানের পরিচালক (প্রকৌশল অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) স্বাক্ষরিত ওই দরপত্রে বলা হয়, সর্বনিম্ন খরচে লিজের চুক্তি পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজ দুটি ফেরত দেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এজন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের লিজ নেয়া উড়োজাহাজ ফেরত দেয়ার কাজে চার বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া চুক্তি সম্পাদনের পর চুক্তির শর্ত পর্যবেক্ষণ ও কাগজপত্র বিশ্লেষণের জন্য পাঁচ মাস সময় পাবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে উড়োজাহাজ ফেরত দেয়ার কাগজপত্র তৈরি ও উড়োজাহাজ নিরীক্ষণের জন্য তিন মাস ও রিডেলিভারি সি চেক করার জন্য ৪৫ দিন সময় দেয়া হবে তাদের।

জানা গেছে, লিজে আনা দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৩০৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বিমানের। ফলে পাঁচ বছরের চুক্তিতে আনা উড়োজাহাজ দুটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ফেরত দেয়ার উপায় খুঁজতে পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি, যাতে সম্ভাব্য আরো লোকসান ঠেকানো যায়।

বিমান সূত্র জানায়, মিসরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে ড্রাই লিজে আনা দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ বিমানবহরে যুক্ত হয় ২০১৪ সালের মার্চে। পাঁচ বছরের চুক্তিতে আনা উড়োজাহাজ দুটির ইঞ্জিন চারবার মেরামত করতে হয়েছে বিমানকে। বর্তমানে উড়োজাহাজ দুটি সচল থাকলেও বিভিন্ন সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজ দুটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রাউন্ডেড ছিল।

এদিকে গত আগস্টে উড়োজাহাজগুলোর বারবার গ্রাউন্ডেড হওয়ার কারণ খুঁজতে ও লিজের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে একটি কমিটি গঠন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ কমিটি উড়োজাহাজ দুটি লিজদাতা প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেয়ার সুপারিশ করে। তাই ফের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ার আগেই উড়োজাহাজগুলো ফেরত দিতে চায় বিমান।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, মিসরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ড্রাই লিজে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ দুটির একটি (রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এস২-এএইসএল, কনস্ট্রাকশন নং ৩২৬৩০) ২০১৪ সালের মার্চে বিমানবহরে যু্ক্ত হয়। অন্যটি (রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এস২-এএইসকে, কনস্ট্রাকশন নং ৩২৬২৯) যুক্ত হয় একই বছরের মে মাসে। চুক্তি অনুসারে উড়োজাহাজ দুটি যাত্রী পরিবহন করুক আর না করুক, মাসে উড়োজাহাজপ্রতি ৫ লাখ ৮৫ হাজার ডলার (৪ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার টাকা) ভাড়া দিতে হবে বিমানকে। উড়োজাহাজ দুটির সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বহন করতে হবে লিজগ্রহীতাকে। পাঁচ বছরের আগে চুক্তি বাতিল করতে পারবে না বিমান। লিজের মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ দুটি আগের অবস্থায় (ভাড়া নেয়ার সময় যে অবস্থায় ছিল) ফেরত দিতে হবে।

২০১৪ সালে বিমানবহরে যুক্ত হওয়ার এক বছর পরই উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিন বিকল হয়। পরবর্তীতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮ লাখ টাকায় (১০ হাজার ডলার) ভাড়ায় ইঞ্জিন দিয়ে সচল করা হয় উড়োজাহাজটি। নষ্ট ইঞ্জিনটি মেরামতের জন্য পাঠানো হয় লন্ডনভিত্তিক ইউনাইটেড এয়ারলাইনসে। ইঞ্জিনটি মেরামত করে ফেরত আনার আগেই তিন বছরের মাথায়  আবারো তা নষ্ট হয়ে যায়। তখনো ইজিপ্ট এয়ার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮ লাখ টাকায় ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। বিকল ইঞ্জিনটি মেরামতের জন্য পাঠানো হয় ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের কাছে।

বিমানের প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা না করে চুক্তি সম্পাদন করায় লিজে আনা উড়োজাহাজ দুটি বিমানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত সুবিধার আশায় বিমানের স্বার্থ না দেখে এমন চুক্তি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন সংস্থাটির কিছু কর্মকর্তা। ফলে এ চুক্তি করে বিমান এখন উভয় সংকটে পড়েছে। উড়োজাহাজ না চালালেও সচল করে ফেরত দিতে হবে। এতে বিরাট অংকের টাকা ব্যয় হবে। অন্যদিকে সময় শেষ হওয়ার আগে সহজে ফেরতও দেয়া যাবে না। এ কারণে বিদেশী পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের খোঁজ করা হচ্ছে, যারা চুক্তির শর্ত বিশ্লেষণ করে ফেরত দেয়ার উপায় বের করে সহায়তা করবে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• মোংলা বন্দরে অতিরিক্ত ল্যান্ডিং চার্জ
• শ্রীলঙ্কার বন্দর চীনকে হস্তান্তর
• মালয়েশিয়ায় রি-হায়ারিং ৩১ ডিসেম্বর শেষ : চলছে ধরপাকড়ও
• দেশের অর্থনীতির প্রাণ চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল রাখতে হবে
• মোংলা বন্দরে পণ্য খালাসে খরচ চট্টগ্রামের চার গুণ
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters