জেটি, ইয়ার্ড সুবিধা বৃদ্ধি আর যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ করা হবে বন্দরকে [ প্রথম পাতা ] 14/09/2017
একান্ত আলাপে চেয়ারম্যান এম খালেদ ইকবাল
জেটি, ইয়ার্ড সুবিধা বৃদ্ধি আর যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ করা হবে বন্দরকে
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেছেন, আমার মূল লক্ষ্য হলো বন্দরের অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ানো। তাই জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য জেটি ও ইয়ার্ড সুবিধা বৃদ্ধি এবং যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। বেশকিছু যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যে সংযোজিত হয়েছে এবং আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে গেন্ট্রি ক্রেনসহ আরও যন্ত্রপাতি আসবে।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল গতকাল বন্দর ভবনে তাঁর কার্যালয়ে দৈনিক পূর্বকোণ প্রতিনিধির সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এই তথ্য জানান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমাদের জেটি বাড়াতে হবে, ইয়ার্ড বাড়াতে হবে, ইকুইপমেন্ট বাড়াতে হবে। এই তিনটা জিনিসকে সবচেয়ে আগে বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে রূপকল্প– ২০২১ আমাদের সামনে দিয়েছেন সেটা এবং সপ্তম পাঁচসালা পরিকল্পনায় বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বন্দর উন্নয়ন করা, অভ্যন্তরীণ রুটে পানগাঁও পর্যন্ত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বারে বারে উঠে এসেছে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি যে বাড়ছে তার বড় প্রমাণ চট্টগ্রাম বন্দরের হ্যান্ডলিং চিত্র। কার্গো এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেড়ে গেছে প্রচুর। কিন্তু আমাদের যদি আরও জেটি থাকতো, আরও ইকুইপমেন্ট থাকতো তাহলে আরও বেশি হ্যান্ডলিং সম্ভব হতো এটা সত্যি কথা, অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। শুধু ইম্পোর্ট নয়, এক্সপোর্টও বেড়েছে প্রচুর।

বন্দর চেয়ারম্যান জানালেন, গত এক বছরে জেটিতে ইয়ার্ড সুবিধা সম্প্রসারিত হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট। তাতে ৫/৬ হাজার কন্টেইনার রাখার ক্যাপাসিটি বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ বছরে আমাদের কন্টেইনার জট কম। জটটা আমরা বুঝতে দিচ্ছি না। রুবি সিমেন্টের পাশে সাউথ কন্টেইনার ইয়ার্ড আগামী মাসে উদ্বোধন করা হবে। সেখানে এক হাজার টিইইউ’র বেশি কন্টেইনার সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ওটাকে অকশন ডিপো করা হচ্ছে নিলামযোগ্য কন্টেইনার রাখার জন্য। অনেক অকশন কন্টেইনার পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রথম পর্যায়ের ইয়ার্ড হয়ে গেছে সেখানে। ওঠার সাথে সাইলো পর্যন্ত ইয়ার্ড সুবিধা তৈরির কর্মসূচি রয়েছে। ট্রেন লাইন আছে, ট্রেনে যাবে কন্টেইনার। ওভারফ্লো ইয়ার্ড নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। ওয়াল, ড্রেন, রাস্তা হয়ে গেছে। আগামী বছরের জুন–জুলাইয়ের মধ্যে কাজ চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সেটাকে ডেলিভারি ইয়ার্ডে পরিণত করা হবে। তখন সব ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান যাবে সেখানে, একটাও জেটিতে প্রবেশ করবে না।

রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বললেন, ইকুইপমেন্টের সাথে আমাদের সক্ষমতা সরাসরি জড়িত। ইকুইপমেন্ট যত বেশি হবে দক্ষতা তত বাড়বে। প্রতি গ্যান্ট্রি ক্রেনের জন্য ক’টি আরটিজি লাগে, কয়টা স্লটের জন্য ক’টি আরটিজি লাগে, ক’টি স্ট্রেডল ক্যারিয়ার লাগে সব হিসাব করা আছে। যন্ত্রপাতির একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। তা থেকে যদি আমাদের ইকুইপমেন্ট একটু কম থাকে, দক্ষতার ওপর আঘাত আনবে। আমি এখন চেষ্টা করছি এবং আশা করি সফল হবো। জাহাজের টার্ন এরাউন্ড টাইম কমিয়ে আনার জন্য কিছু অপরিহার্য ব্যবস্থা নিতে হয়। শিপিং এজেন্টরা সেটা অনেক সময় অপছন্দ করতে পারেন।

আরও জানালেন, গত অর্থবছরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৫৫টি ইকুইপমেন্টের অনুমোদন পাওয়া গেছে। সংগ্রহের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ৯০ শতাংশের টেন্ডার ডকুমেন্ট কমপ্লিট হয়ে কন্ট্রাক্ট সাইন হয়ে গেছে। ৪৬টি যন্ত্রপাতি চলে এসেছে। আগামী ৭/৮ মাসের মধ্যে আরও কিছু চলে আসবে। ১১টি আরটিজির মধ্যে ৪টি চলে এসেছে, ৬টা শিপমেন্ট হবে। অক্টোবরশেষে এগুলো চলে আসবে। এগুলোর প্রি–শিপমেন্ট ইন্সপেকশনে যাচ্ছে একটি টিম। আরও দুটি আসবে ৫/৬ মাসের মধ্যে। পার্সেজ কমিটি অনুমোদন করেছে ৬টা গ্যান্ট্রি ক্রেন। প্রায় ১২ বছর আগে কেনা হয়েছিল ৪টা গ্যান্ট্রি ক্রেন। এরপর আর হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে আমরা গ্যান্ট্রি ক্রেন কিনতে পেরেছি। পার্সেজ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। চুক্তি সই হবে। আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে ক্রেনগুলো এসে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, আরও ৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেনের জন্য টেন্ডার ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩/৪ মাস সময় লাগে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরও ৪টি গেন্ট্রি ক্রেন আসবে। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের জন্য ২০টি যন্ত্রপাতির সংস্থান রয়েছে। এগুলো সংগ্রহের প্রস্তুতি এখন চলছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই টার্মিনাল উদ্বোধন হবে। এই টার্মিনালের জন্য ৪টি গেন্ট্রি ক্রেন, ৮টি আরটিজির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চেয়ারম্যান খালেদ ইকবাল বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন–বিজিএমইএ দু’মাস আগেও পোর্টের ব্যাপারে কিছু কথাবার্তা বলেছে, কমেন্ট করেছে। তবে, সেটার কোন যৌক্তিকতা পাইনি। কারণ পরিসংখ্যান বলছে বিগত অর্থবছরেও তাদের রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ৮ শতাংশ। ভ্যালুতে পয়েন্ট দুই তিন পার্সেন্ট কমে যাওয়ার বিষয়ের সাথে তো বন্দরের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। বিশ্ববাজারে পোশাকের দাম কমে গেছে। এটা সবার জানা। ১৬০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, একর্ড এলায়েন্স কারণে। যাহোক, বিজিএমইএ’কে সহায়তার জন্য সব সময় আমাদের প্রচেষ্টা থাকে।

অফডক সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ২০০৮ সালের পর নতুন কোন অফডক হয়নি। অথচ সে সময়ে আমাদের হ্যান্ডলিং করতে হতো এক মিলিয়ন টিইইউ। আর বর্তমানে করতে হচ্ছে আড়াই মিলিয়ন টিইইউ। অথচ অফডক বাড়েনি। এমন কি অফডকগুলো সম্প্রসারণ হয়নি। তাই অফডকেও কনজেশন আছে, সক্ষমতার সমস্যা আছে। তাই অফডক সুবিধা বাড়ানোর জরুরি উদ্যোগ নিয়েছি। কয়েকটা কোম্পানি এ ব্যাপারে আবেদন করেছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অতি শিগগির নতুন অফডকের অনুমতি দেয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ক্যাপিটাল ড্রেজিং : আগামী মাসে কর্ণফুলীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম)-তে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নৌবাহিনীকে। তাদের সাথে নেগোসিয়েশন হয়ে গেছে। চুক্তি সই বাকি রয়েছে। ড্রেজিং শুরু হলে প্রথমেই সদরঘাট এলাকায় নির্মিত ৪০০ মিটার জেটিকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হবে। ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই জেটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে এই জেটি মুখ ড্রেজিং হলে সেখানে অপারেশন শুরু হবে। স্টিল, ফুডগ্রেন আনলোড হবে সেখানে। লালদিয়া মাল্টিপারপাস টার্মিনাল : পিপিপি’র আওতায় এর নির্মাণ কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে তিনি আশা করেন। জানালেন, এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) দেয়ার পর ৬টি কনসোর্টিয়াম টেন্ডার দিয়েছে। শর্টলিস্ট করে তাদেরকে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএসপি) দেয়া হবে। ২০১৮ সালের মার্চ এপ্রিলে কন্ট্রাক্ট এওয়ার্ড করা সম্ভব হতে পারে। লালদিয়া তৈরি হতে সময় লাগবে দু’ থেকে আড়াই বছর। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে বলে আশাবাদী বন্দর চেয়ারম্যান। বললেন, দায়িত্বটা সেনাবাহিনীকে দেয়া হয়েছে। তারা যথেষ্ট দক্ষতায় দ্রুত কাজ করেন। নির্মীয়মান পিসিটি এলাকায় যে কয়েকটি স্থাপনা বিদ্যমান সেগুলোকে ইনকনট্রেড অফডকের পেছনে বন্দরের জায়গায় স্থানান্তর করা হবে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters