৭০ হাজার উদ্যোক্তা তৈরি করবে এসএমই ফাউন্ডেশন [ শিল্প বাণিজ্য ] 11/10/2017
৭০ হাজার উদ্যোক্তা তৈরি করবে এসএমই ফাউন্ডেশন
রফিকুল ইসলাম    :

বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে প্রায় ৭০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) তৈরি করবে এসএমই ফাউন্ডেশন। দেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে সারা দেশকে ১৭৭টি ক্লাস্টারে ভাগ করে উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করেছে।
এসব ক্লাস্টারে তৈরি হবে ৬৯ হাজার ৯০২ নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। এতে উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ১৯ লাখের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে সুবিধা পাবে।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ফাউন্ডেশনের পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চাহিদা থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকারের কাছে আরো ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি এসংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে ২০০৭ সালে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠন করা হয় এসএমই ফাউন্ডেশন। ২০০ কোটি টাকা বিশেষ ফান্ড নিয়ে যাত্রা শুরু করে এটি। এই ফান্ডের টাকা ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবে ব্যাংকে অর্জিত মুনাফা থেকে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফাউন্ডেশন উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ, এসএমই পণ্যের প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণ, পরামর্শ, সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা সৃষ্টি ও পরিচালনায় দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।

২০১২ সাল থেকে আমানতে (ফিক্সড ডিপোজিট) সুদের হার কমে যাওয়ায় আয় কমতে থাকে এসএমই ফাউন্ডেশনের। সুদের হার বেশি থাকায় ২০০৭ সাল থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমানো টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটে সংকুচিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। সুদের হার একডিজিটে প্রায় ৫ শতাংশে নেমে আসায় মুনাফা অর্ধেকের বেশি কমেছে। ঋণের চাহিদা থাকলেও উদ্যোক্তাদের দিতে পারায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সরকারের কাছে আরো ৫০০ কোটি বরাদ্দ চেয়েছে।

সূত্র জানায়, ক্রমাগত সুদের হার কমতে থাকায় ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে এন্ডাউমেন্ট ফান্ডে আরো ৫০০ কোটি টাকা দিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, ২০০৭ সালে এসএমই ফাউন্ডেশন গঠনের সময় সরকার ফাউন্ডেশনে ২০০ কোটি এন্ডাউমেন্ট ফান্ড বরাদ্দ দেয়, যা ফাউন্ডেশনের একমাত্র মূলধন। এ খাতে অর্জিত সুদ থেকে ব্যবস্থাপন ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট চার কোটি টাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণে একেবারেই কম বিবেচনায় ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে ওই ফান্ডে আরো ৫০০ কোটি টাকা প্রদানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে বলে ফাউন্ডেশনকে জানানো হয়। তবে তিন বছর পার হলেও এখনো সেই টাকা পায়নি ফাউন্ডেশন। চলতি বছরের মে মাসে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিব উল্লাহ অর্থমন্ত্রী বরাবর আবারও একটি চিঠিতে পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে অর্থ সংকট ও কার্যক্রম সংকোচনের বিষয় অবগত করার পাশাপাশি আরো ৫০০ কোটি বরাদ্দ চেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া এসএমই ফাউন্ডেশনকে করমুক্ত সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি জাতীয় বাজেটের আওতায় বার্ষিক ২০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দও চেয়েছে সংস্থাটি।

অর্থমন্ত্রীকে প্রেরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাকালে সরকারের দেওয়া ২০০ কোটি টাকায় অর্জিত মুনাফা থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিজনেস সাপোর্ট সার্ভিস, ট্রেনিং, পলিসি অ্যাডভোকেসি, রিসার্চ, আইসিটি ও টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ক্রেডিট সার্ভিস সেবা প্রদান করা হয়। নিজস্ব কোনো অফিস ভবন না থাকায় ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খাতে বছরে দুই কোটি টাকা খরচ হয়। বিগত ২০১২ সাল থেকে ব্যাংকের সুদের হার কমতে থাকায় ফাউন্ডেশনের আয় অর্ধেকে নেমেছে। ফলে উদ্যোক্তা উন্নয়নে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নতুন কর্মসূচি গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না আবার চলমান কার্যক্রম সংকোচন করার উপলক্ষ দেখা দিয়ছে। এন্ডাউমেন্ট ফান্ডের সুদ ছাড়া ফাউন্ডেশনের আর কোনো আয় নেই। ’ চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সাল থেকে আয়কর অব্যাহতির সুবিধার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আবেদন করলেও অদ্যাবধি পাওয়া যায়নি। সরকার এরই মধ্যে একই ধরনের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনকে করমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে। এসএমই ফাউন্ডেশনকেও করমুক্ত সুবিধা প্রদানে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

এসএমই ফাউন্ডেশন সূত্র বলছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে ৬৪ জেলায় ১৭৭টি ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১২৯টি সম্ভাবনাময় ক্লাস্টার। সহজ শর্তে ঋণ সরবরাহ করতে পারলে উদ্যোক্তারা নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বড় ভূমিকা রাখবে। আর এসব ক্লাস্টারে ১৯ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৯ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে জড়িত।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘সুদের হার কমে যাওয়ায় ফিক্সড ডিপোজিট থেকে মুনাফা কমেছে। এতে আগের জমানো টাকা বা মূলধন থেকে খরচ করতে হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও আমরা দিতে পারছি খুবই কম। যদিও অন্যান্য ব্যাংক কিংবা প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে ঋণ পাচ্ছে না ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। বড় বড় ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সহজেই ঋণ ফিরিয়ে দিচ্ছে। ’ তিনি বলেন, ৯ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হয়। তবে এই সরাসরি দিতে না পারায় ব্যাংক ৫ শতাংশ আর এসএমই ফাউন্ডেশন পায় ৪ শতাংশ। এই ঋণে কোনো খেলাপি নেই, শতভাগ ঋণ ফিরে পাওয়া যায়। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এগিয়ে নিতে হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। ফাউন্ডেশনের কাজে গতিশীলতা আনতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters