চীনের ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ : শর্ত নিয়ে জটিলতা [ শেষের পাতা ] 11/10/2017
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
চীনের ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ : শর্ত নিয়ে জটিলতা
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে। ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই সর্বোচ্চ গতিতে যান চলাচলের জন্য এ এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ ২১ হাজার টাকা। সরকারের আশা, এ ব্যয়ের একটি বড় অংশ আসবে চীন সরকারের কাছ থেকে। গত বছর চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকালে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে এ ঋণের শর্ত নিয়ে। মোট ঋণের কত শতাংশ সহজ শর্তে এবং কঠিন শর্তের আওতায় থাকবে তা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ৪ মাস আগে লেটার অব ইন্টারেস্ট পাঠানো হলেও কোনো জবাব দেয়নি চীন। এ অবস্থায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করেছে পরিকল্পনা কমিশন, যা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদনের পরই চীনকে নেগোসিয়েশনের (আলোচনা) চাপ দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় চীন সরকারের সম্ভাব্য ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (্্্ইআরডি) চীন ডেস্কের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উপসচিব কেএম মতিউর রহমান যুগান্তরকে জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১৫ শতাংশ গভারমেন্ট কনসেশনাল ঋণ (সহজ শর্তের ঋণ) এবং ৮৫ শতাংশ প্রিফারেনশিয়ার বায়ার্স ক্রেডিট (কিছুটা কঠিন শর্তের ঋণ) প্রদানের জন্য চীন সরকারের কাছে ১ জুন লেটার অব ইন্টারেস্ট পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এর সরাসরি জবাব দেয়নি চীন। তবে এটা কোনো বিষয় নয়। কেননা ইতিমধ্যেই চীন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি জানান, একনেক ডিপিপি অনুমোদন হলে ঋণ নেগোসিয়েশনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে।

সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল হয়ে নবীনগর মোড় এবং ইপিজেড হয়ে চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ে এলাইনমেন্টের মধ্যে অবস্থিত প্রস্তাবিত ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে ৩০টি জেলার সংযোগ স্থাপনকারী আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা করিডরে যানজট কমে আসবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ২০১৩ সালে বুয়েট প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। প্রাক-সম্ভাব্যতা অনুযায়ী এলাইনমেন্ট ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল হয়ে নবীনগর মোড় এবং ইপিজেড হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত মোট ৩৫ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। পরবর্তীকালে ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে আবারও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়। এই সমীক্ষায় এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ১১ কিলোমিটার কমিয়ে ২৪ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় ১০ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার র‌্যাম্প এবং ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক (২ লেন প্লাস ২ লেন সার্ভিস রোড)।

ইআরডি সূত্র জানায়, এ প্রকল্পটিতে অর্থায়ন চুক্তি (ফাইনান্সিং এগ্রিমেন্ট) এবং কারিগরি চুক্তি (ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট) কি হবে তা নেগোসিয়েশনের সময় চূড়ান্ত করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নেগোসিয়েশনের পরই বাণিজ্যিক চুক্তি হবে। বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়টি ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। তবে চীনের সহযোগিতা এবং সাড়া পেতে দেরি হলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন জটিলতার কারণে ২০১৭ সালে চীন সরকারের অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কেননা চলতি বছর চীনের ৮টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকায় এ প্রকল্পটি নেই। তাই ২০১৮ সালের আগে অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজিতে শহরের যানজট নিরসন এবং যথাযথ পরিবহন ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) বাস্তবায়নের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে চীনের সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৪০ দশমিক ৮৯ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন, ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ১০ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার র‌্যাম্প, এক দশমিক ৯২ কিলোমিটার নবীনগর ফ্লাইওভার, ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ, দুই দশমিক ৭২ কিলোমিটার দুই লেনের সেতু নির্মাণ, ৫০০ মিটার ফ্লাইওভার বা ওভারপাস, ১৮ কিলোমিটার ইউটিলিটির জন্য ড্রেন তৈরি, পাঁচটি টোল প্লাজা নির্মাণ ও যানবাহন ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters