টাওয়ার বাড়লেও কমছে না নেটওয়ার্ক নিয়ে ভোগান্তি [ প্রথম পাতা ] 12/10/2017
দুই বছরে বিটিএস বেড়েছে ২৪ হাজার
টাওয়ার বাড়লেও কমছে না নেটওয়ার্ক নিয়ে ভোগান্তি
সুমন আফসার  :

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলরামপুর গ্রাম। শীর্ষ একটি সেলফোন অপারেটরের দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ভয়েস ও ডাটাভিত্তিক সেবা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে ওই গ্রামের অধিবাসীদের। সম্প্রতি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও করেছে গ্রামবাসী।

শুধু বলরামপুর নয়, এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অথচ গত দুই দশকে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পাশাপাশি টাওয়ারের সংখ্যাও বাড়িয়েছে সেলফোন অপারেটরগুলো। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সেলফোন টাওয়ার বাড়ালেও সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ কমেনি।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুই দশকে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরিতে সারা দেশে ৭০ হাজার টাওয়ার স্থাপন করেছে সেলফোন অপারেটররা। এসব টাওয়ার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনায় একদিকে যেমন বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তেমনি পরিবেশের ওপরও রয়েছে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।

টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপনে প্রতিটি টাওয়ারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এ দুই ধরনের অবকাঠামো ব্যবহার করা হয়। টাওয়ার স্থাপনে ব্যবহূত ভূমি, ভবন, ছাউনি, অ্যান্টেনা, টাওয়ার, বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা ও ব্যাটারিকে পরোক্ষ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে সক্রিয় অবকাঠামোর অংশ হিসেবে প্রতিটি টাওয়ারে থাকে বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) বা বেতার তরঙ্গসংশ্লিষ্ট যন্ত্র। থ্রিজি নেটওয়ার্কের জন্য এক্ষেত্রে নোড-বি ও এলটিই নেটওয়ার্কের জন্য ই-নোড বি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মাইক্রোওয়েভ রেডিও লিংক, নেটওয়ার্ক কন্ট্রোল ও সুইচিংয়ের জন্য ব্যবহূত যন্ত্রও সক্রিয় অবকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। ভিন্নতা অনুযায়ী প্রতিটি টাওয়ারে একাধিক জিএসএম ও মাইক্রোওয়েভ অ্যান্টেনা ব্যবহার করা যায়। ফলে একই টাওয়ারের মাধ্যমে একাধিক অপারেটরের বিটিএস ব্যবহার করা সম্ভব।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের জুন শেষে দেশে ছয় সেলফোন অপারেটরের বিটিএসের সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৯৪০। পরের বছরের জুনে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫ হাজার ৫৭০। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেলফোন অপারেটরদের নেটওয়ার্কে মোট বিটিএস ছিল মোট ৫৮ হাজার ৩৩৭টি। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৯ হাজার ৭৯৭টি বিটিএস ও ৫ হাজার ৬৩৬টি নোড-বি, বাংলালিংকের ৯ হাজার ২৭৫টি বিটিএস ও ৩ হাজার ৫৫টি নোড-বি, রবির ১৩ হাজার ৩২১টি বিটিএস ও ৩ হাজার ২৪৭টি নোড-বি, এয়ারটেলের ৫ হাজার ১৯৬টি বিটিএস ও ২ হাজার ৪৬৬টি নোড-বি, টেলিটকের ৩ হাজার ৬৮৩টি বিটিএস ও ১ হাজার ৩২৩টি নোড-বি এবং সিটিসেলের ৮৭৪টি বিটিএস ছিল। ২০১৬ সালের জুন শেষে সেলফোন অপারেটরদের বিটিএসের সংখ্যা ৬৯ হাজার ছাড়িয়েছে। সে হিসাবে দুই বছরে বিটিএস বেড়েছে ২৪ হাজার।

নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ ও টাওয়ার বৃদ্ধির পরও নেটওয়ার্ক নিয়ে গ্রাহক ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন সৈয়দ তালাত কামাল বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ গ্রামীণফোনের থ্রিজি নেটওয়ার্কের আওতায় আছে। ডাটা ব্যবহার বৃদ্ধির হার সন্তোষজনক না হলেও যথেষ্ট উত্সাহব্যঞ্জক। আমরা গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, তবে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার মাধ্যমে বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা তরঙ্গের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার অনুমতি দেয়া হলে সেবার মান আরো ভালো হতে পারত।

বর্তমানে গ্রামীণফোনের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বিটিএস রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ১১ হাজার ৮০০ বিটিএসের মাধ্যমে থ্রিজি প্রযুক্তির সেবা দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সারা দেশে বাংলালিংকের নয় হাজারের বেশি বিটিএস রয়েছে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর আসিফ আহমেদ। এসব বিটিএসের ৯০ শতাংশই থ্রিজি প্রযুক্তির বলে জানান তিনি।

অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার কারণে স্থাপিত এসব টাওয়ারের এক-তৃতীয়াংশই প্রয়োজনের অতিরিক্ত। তাই দেশে অপারেটরদের মধ্যে অবকাঠামো ভাগাভাগির সুযোগ তৈরিতে ২০০৮ সালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং গাইডলাইন করা হয়, যা ২০১১ সালে সংশোধন করা হয়। এ নীতিমালার আওতায় অপারেটররা একে অন্যের টাওয়ার ভাগাভাগির মাধ্যমে ব্যবহার করছে। ভূমি ও জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যেই দিকনির্দেশনামূলক এ নীতিমালা করা হয়। তবে এতে কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় তা অনুসরণ করেনি অপারেটররা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়ার বিধান রেখে টাওয়ার শেয়ারিং নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে বিটিআরসি। এরই মধ্যে এটি অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে অপারেটররাও প্রায় প্রত্যেকে আলাদা টাওয়ার কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের অনুমোদন আগেই পেয়েছে রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেল বাংলাদেশ (সম্প্রতি রবি আজিয়াটার সঙ্গে একীভূত)। আর কোম্পানি গঠনের আবেদন করেছে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters