গ্রামীণ ঋণের ৩২% অপ্রাতিষ্ঠানিক [ শেষের পাতা ] 12/10/2017
গ্রামীণ ঋণের ৩২% অপ্রাতিষ্ঠানিক
সাইদ শাহীন  :

নিরন্তর পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। কৃষিনির্ভরতা কমিয়ে নানা ধরনের অকৃষি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মানুষ, যা গ্রামীণ জীবনযাত্রায়ও আনছে পরিবর্তন। তবে গ্রামীণ মানুষের এ অগ্রযাত্রায় খুব বেশি কার্যকর অবদান রাখতে পারছে না প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থা। এখনো গ্রামে বিতরণ হওয়া ঋণের এক-তৃতীয়াংশ বা ৩২ শতাংশ আসে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গ্রামীণ অর্থায়ন ব্যবস্থা, কৃষি খাতের গতি-প্রকৃতি ও সমস্যা নিয়ে ধারণা পেতে ১৯৮৮ সাল থেকেই দেশের ৬২টি গ্রামের ওপর জরিপ পরিচালনা করে আসছে ব্র্যাক। শুরুতেই এ গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ব্র্যাকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও প্রয়াত অর্থনীতিবিদ ড. মাহাবুব হোসেন। তার মৃত্যুর পর এ গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যান ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল বায়েস, যা চলতি বছরে শেষ হয়। এ কাজে পরামর্শক ছিলেন ড. ফখরুল ইসলাম।

খানা জরিপের ১৯৮৮, ২০০০ ও ২০১৪ সালের উপাত্ত এবং বিবিএস টাইম সিরিজের তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থার এ চিত্র তুলে আনা হয়েছে।

গবেষণার তথ্যমতে, গত কয়েক দশকের ব্যবধানে গ্রামে অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমছে। ১৯৮৮ সালে মোট ঋণের ৭১ শতাংশ আসত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে। ২০০০ সালে তা ৩৮ এবং ২০১৪ সালে ৩২ শতাংশে নেমে আসে। সে হিসাবে গ্রামীণ ঋণের ৬৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে আসে, যার বড় অংশীদার বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও)। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ৫৬ শতাংশই এনজিওগুলো সরবরাহ করে। ব্যাংক বিতরণ করে মাত্র ১২ শতাংশ ঋণ।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও গবেষক অধ্যাপক আবদুল বায়েস বণিক বার্তাকে বলেন, গ্রামীণ ঋণ ব্যবস্থায় এখনো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এককভাবে এ বাজারে উচ্চসুদে ঋণ দিচ্ছে এনজিওগুলো। আবার ব্যাংকগুলো থেকে গ্রামীণ কিছু মানুষ ঋণ পাচ্ছে। কিন্তু এ দুই মাধ্যমে ব্যবস্থাগত কিছু ত্রুটি থাকায় গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ ঋণ পাচ্ছে না। ফলে বড় একটি অংশ ঋণের বাইরে থাকছে কিংবা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে ঋণ গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় বাণিজ্যিক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণ বিতরণ যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি বাড়াতে হবে গ্রহীতার সংখ্যাও। গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঋণের বাইরে রেখে কিংবা উচ্চসুদে অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ দিয়ে উন্নত দেশ গড়াটা কষ্টসাধ্য হবে।

গবেষণার তথ্যমতে, গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থায় মোট ঋণে ব্যাংকের অংশ কমছে। ১৯৮৮ সালে মোট ঋণের ২১ শতাংশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলেও ২০১৪ সালে তা ১২ শতাংশে নেমে আসে। আর ব্যাংকের ঋণের অংশ কমার কারণে এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষিঋণের বড় একটি অংশ এখনো এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ করায় ব্যাংকের অংশগ্রহণের সঠিক স্বীকৃতি মিলছে না বলে জানান ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি বলেন, গ্রামীণ ঋণের ক্ষেত্রে জামানত ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত হয়নি। তাই কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরকারের নীতি সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রামে ঋণ বিতরণে সচেষ্ট রয়েছে। কেননা ব্যাংকের শাখা স্থাপনের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রাম সমান অনুপাত রাখা হয়েছে।

অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণদাতাদের মধ্যে রয়েছে মহাজন ও আত্মীয়স্বজন। তবে ঋণ প্রদানে প্রথাগত মহাজনদের অবদান কমছে। ১৯৮৮ সালে মহাজনি উৎস থেকে ২৬ শতাংশ ঋণ বিতরণ হলেও বর্তমানে তা ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে এ সময়ে আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নেয়ার হার ৪৬ থেকে কমে ২১ শতাংশে এসেছে।

আইএনএমের সাবেক নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এমএ বাকী খলীলী এ প্রসঙ্গে বলেন, একদিকে যেমন কম সংখ্যক গ্রামীণ মানুষ ঋণের আওতায় আসছে, তেমনি যে কারণে ঋণ চাচ্ছে, ঠিক সে কারণেও অনেক সময় পাচ্ছে না। তবে অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের শতভাগ পুনঃস্থাপন (রিপ্লেসমেন্ট) করা সম্ভব নয়। তবে তা যত দূর সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। গ্রামীণ বাজারে যেহেতু এনজিও বিশেষ অবস্থান নিতে সক্ষম হয়েছে, তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবে না। এখানে বিশেষায়িত বা গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। তবে অবশ্যই নিম্ন সুদের হার চালু করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো যে ঋণ দিচ্ছে, তার কম্পজিশনও মূল্যায়ন করতে হবে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters