Hawker.com.bd     SINCE
 
 
 
 
বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে নিয়োগ হচ্ছে অপারেটর [ আরও খবর ] 16/11/2017
বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে নিয়োগ হচ্ছে অপারেটর
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস মানে ব্যাগেজ ওঠানামার কাজ নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এ কাজ শুরু থেকেই করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সেবার মান বাড়াতে এবার অপারেটর হিসেবে লাইসেন্স দেবে সরকার। কাজ পেতে চাইলে নামতে হবে প্রতিযোগিতায়। সব মিলিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে একক আধিপত্য হারাচ্ছে বাংলাদেশ বিমান। শিগগির এ সংক্রান্ত এয়ার নেভিগেশন অর্ডার (এএনও) জারি করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আজ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত বৈঠকে প্রেজেন্টশন তুলে ধরা হবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর কাছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের প্রবিধানমালা-২০১৭ প্রস্তুতের জন্য গঠিত কমিটি সম্প্রতি দুটি সুপারিশ জমা দিয়েছে। তাতে বলা হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রদানে তা প্রবিধানমালা আকারে জারি না করে এর পরিবর্তে এএনও জারি করা যেতে পারে। এটি করবেন বেবিচকের চেয়ারম্যান। অর্থ বিভাগের অনুমোদনের পর তা জারি করা যেতে পারে। কমিটির এ সুপারিশের পর এএনও জারির প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দিয়েছে। এর পর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করতে বেবিচকের চেয়ারম্যানকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত জিয়াউল হক বলেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সেবার মান বাড়াতে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে এ সেবা দিতে যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অপারেটর হিসেবে লাইসেন্স নিতে হবে। এর পর প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কাজ পেতে পারে।

নীতিমালায় অর্থ সংক্রান্ত বিষয় থাকায় অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে কিছু বিষয় জানতে হয়। এর জবাবের পর দ্রুত এএনও জারি করবে বেবিচক। আজ এ নীতিমালার ব্যাপারে বিস্তারিত ধারণা দিতেই পাওয়ার প্রেজেন্টশনের কথা রয়েছে।

সূত্রমতে, বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বেবিচক কর্তৃক প্রস্তাবিত মূলধন, ফি ও চার্জ নির্ধারণ করা হবে। এতে বিমানের বাইরেও দেশি-বিদেশি যে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারে। এমনকি যৌথ অংশীদারত্বে হতে পারে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ। লাইসেন্স পাওয়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মানের অডিট করবে প্রতিবছর সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। তিন বছরের জন্য অপারেটরকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। তিন ধরনের লাইসেন্স দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। সে অনুযায়ী, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স পেলে দেশের সব বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সব এয়ারলাইন্সকে সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান সেবা দিতে পারবে কেবল দেশি এয়ারলাইন্সকে। আর ‘সি’ ক্যাটাগরিতে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো নিজস্ব ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিস করতে পারবে, যে বিধান এখনো বিদ্যমান।

সূত্র জানায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনা থাকলে ৫১ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের। এর বাইরে যে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই বছর গ্রাউন্ড সার্ভিসের অভিজ্ঞতা থাকা প্রতিষ্ঠান ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স আবেদন করতে পারবেন। তবে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় থাকলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিনে কমপক্ষে ৩০টি উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড সার্ভিসের ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রেও তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিনে কমপক্ষে ২০টি উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড সার্ভিসের দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

অর্থ বিভাগে পাঠানো প্রস্তাবনায় মূলধনের ব্যাপারে বলা হয়েছেÑ আগ্রহী সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে ২০০ কোটি এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির জন্য ৫০ কোটি টাকা। আর ‘সি’ ক্যাটাগরির জন্য বলা হয়েছেÑ এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেটে বর্ণিত শর্ত মোতাবেক। ফি ও চার্জের বিষয়ে প্রস্তাবনায় বলা হয়Ñ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ১০ কোটি টাকা আর নবায়ন ফি ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়াও রয়ালটি চার্জ ধরা হয় প্রতিমাসে রাজস্ব আয়ের ৫ শতাংশ। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ধরা হয়েছে ৪ কোটি এবং নবায়ন ফি দেড় কোটি টাকা। রয়ালটি চার্জ প্রতিমাসে রাজস্ব আয়ের ৫ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ৩০ লাখ, লাইসেন্স নবায়ন ফি ১৫ লাখ এবং রয়ালটি চার্জ ধরা হয়েছে রাজস্ব আয়ের ৫ শতাংশ। আর ‘বি’ ক্যাটাগরি অপারেটরের জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ৫ কোটি, নবায়ন ফি আড়াই কোটি এবং রয়ালটি চার্জ রাজস্ব আয়ের ৫ শতাংশ। আর শাহ আমানত বিমানবন্দর, ওসমানী বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ২ কোটি, নবায়ন ফি ১ কোটি এবং রয়ালটি চার্জ রাজস্ব আয়ের ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। অন্য বিমানবন্দরে লাইসেন্স ইস্যু ফি ১৫ লাখ, নবায়ন ফি ৫ লাখ এবং রয়ালটি চার্জ হিসেবে ধরা হয়েছে রাজস্ব আয়ের ৫ শতাংশ হারে।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
• পর্যটন খাতে দুবাইয়ের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করার আহ্বান
• বন্দরকে ব্যবসায়ীবান্ধব করাই প্রধান লক্ষ্য
• সোনাদিয়া পয়েন্টে ভিড়েছে এলএনজিবাহী জাহাজ এক্সিলেন্স
• চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
• হজ নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন আরও ২৩৬ জন
• রমজানের পণ্য আমদানিতে এখনো জাহাজজট হয়নি
• চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহারকারী বান্ধব করে তোলা হবে
• কন্টেনার পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াচ্ছে বন্দর
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters