অলস ফেলে রাখা রেফার কনটেইনারের গতি হচ্ছে [ ] 16/11/2017
চট্টগ্রাম বন্দর
অলস ফেলে রাখা রেফার কনটেইনারের গতি হচ্ছে
শিপিং কোম্পানির জন্য সুখবর!
ভূঁইয়া নজরুল

রেফার কনটেইনারের (পচনশীল পণ্য রাখার কনটেইনার যা একটি ফ্রিজের মতো কাজ করে) ফাঁস থেকে মুক্ত হচ্ছে শিপিং কোম্পানিগুলো! গত সেপ্টেম্বরে পণ্য ধ্বংস করার মাধ্যমে ২১টি কনটেইনার খালি করার পর আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে খালি করা হবে বাকি ১৩৩ কনটেইনার। এরমধ্যে চলতি মাসে খালি হচ্ছে ৩৫ কনটেইনার। মাছ, আপেল, মালটা, আদা, রসুন, আমসহ প্রভৃতি পচনশীল পণ্য বোঝাই এসব কনটেইনার সর্বনিম্ন দেড় মাস থেকে ৬ বছর ধরে বন্দরের জেটিতে পড়ে রয়েছে। কিন্তু কনটেইনার বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিল বাবদ গুণতে হচ্ছে প্রায় হাজার টাকা ।

কাস্টমস ও শিপিং কোম্পানিগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, আমদানিকারক পচনশীল পণ্যগুলো আনার জন্য শিপিং কোম্পানিগুলো থেকে রেফার কনটেইনার ভাড়া করেন। কিন্তু বন্দরে এসে পৌঁছার ৩০ দিন পর আমদানিকারক পণ্য খালাস না করলে তা নিলামে তুলে কনটেইনার খালি করার বিধান রয়েছে। তবে বিধান থাকলেও তা কার্যকর না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে জেটিতে পড়ে থাকছে কনটেইনারগুলো।

রেফার কনটেইনারগুলো যথাসময়ে খালি না হওয়ায় শিপিং কোম্পানিগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠান ওওসিএল এর মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘যতোদিন এই কনটেইনারে পণ্য থাকে ততোদিন এটি কারো কাছে ভাড়া দেয়া যায় না। ভাড়া দিতে না পারার ক্ষতির সাথে যুক্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল ও বন্দরের পাওনা। দিন হিসেবে ডলারে তা পরিশোধ করতে হয় শিপিং কোম্পানিগুলোকে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে।’

একই মন্তব্য করে পিআইএল শিপিং লাইন বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহির বলেন, বন্দরের অভ্যন্তরে এমনও কনটেইনার রয়েছে যা ২০১১ সাল থেকে পড়ে আছে। আমদানিকারক পণ্য নেয়নি বলে তা ফেলে রাখা হয়েছে এবং দিনের পর দিন বিল উঠছে শিপিং কোম্পানির নামে। আর এই বিল পরিশোধ করতে হবে কনটেইনারটি খালি হওয়ার পর।

এসব কনটেইনার কেন পড়ে থাকছে বা আমদানিকারকরা কেন তা নিচ্ছে না জানতে চাইলে চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় আমদানিকারক হয়ত পণ্য খালাস নাও করতে পারে, অথবা অর্থনৈতিক কারণ থাকতে পারে বা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে এর পেছনে। তবে যে কারণেই আমদানিকারক পণ্য খালাস না করুক, তা ধ্বংস করার জন্য কাস্টমসের হাতে তো আইন রয়েছে। ৩০ দিন পরে এসব পণ্য নিলাম বা ধ্বংস করতে পারে। তারা তা করলেই পারে। এটা করলেও তো আর শিপিং কোম্পানিগুলোকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় না।’

কিন্তু পণ্যের মালিক আমদানিকারক হওয়ার পরও কনটেইনারের সংযোগ দেয়া বিদ্যুৎ বিলসহ বন্দরের আনুসঙ্গিক বিল শিপিং এজেন্টের নামে কেন হয় জানতে চাইলে মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘কনটেইনারের মালিক হলো শিপিং এজেন্ট, আর সেই কনটেইনারের ভেতরে থাকা পণ্যের মালিক আমদানিকারক। যেহেতু কনটেইনারটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় এবং তা বন্দরের ইয়ার্ডে রাখা হয় তাই এর খরচ বহন করবে শিপিং এজেন্ট।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমদানিকারকের আমদানি করা পণ্যটি নিলাম হয়ে গেল কিংবা ধ্বংস করা হলো।’

এ বিষয়ে কথা হয় সম্প্রতি কাস্টমস কমিশনার পদ থেকে বদলি হয়ে যাওয়া এ এফ এম আবদুল্লাহর সাথে। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে গত সেপ্টেম্বরে দুই দফায় ২১টি রেফার কনটেইনার খালি করা হয়েছে। বাকি কনটেইনারগুলো খালি করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেগুলো দ্রুত করা হবে।’

বাকি রেফার কনটেইনারগুলো খালি করার বিষয়ে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) মিয়া মোহাম্মদ নাজমুল হক শিপিং এজেন্টগুলোর সাথে বৈঠক করেন গত সোমবার। জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা ১৩৩টি রেফার কনটেইনারের মধ্যে ৭২টি খালি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর খালি করা হবে প্রায় ৩৫টি। এছাড়া জেটিতে থাকা সব রেফার কনটেইনার আগামী কয়েক মাসের মধ্যে খালি করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

কাস্টমসের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে জুনিয়র চেম্বার চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘এসব কনটেইনার দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় বন্দরের জায়গা দখলে রয়েছে, এতে ইয়ার্ডে কনটেইনার জট হচ্ছে। নিলামযোগ্য বা পণ্য ধ্বংস করার যোগ্য হলে তা দ্রুত করে ইয়ার্ডগুলোকে ক্ত রাখা দরকার।’
উল্লেখ্য, দেশের আমদানি রপ্তানির ৯৩ শতাংশ পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ বন্দরে ক্রমাগত বাড়ছে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং। গত মাসে বন্দরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• মোংলা বন্দরে অতিরিক্ত ল্যান্ডিং চার্জ
• শ্রীলঙ্কার বন্দর চীনকে হস্তান্তর
• মালয়েশিয়ায় রি-হায়ারিং ৩১ ডিসেম্বর শেষ : চলছে ধরপাকড়ও
• দেশের অর্থনীতির প্রাণ চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল রাখতে হবে
• মোংলা বন্দরে পণ্য খালাসে খরচ চট্টগ্রামের চার গুণ
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters