নতুন ব্যাংকের খেলাপি হাজার কোটি টাকা [ অর্থনীতি ] 26/11/2017
নতুন ব্যাংকের খেলাপি হাজার কোটি টাকা
ফারমার্স, এনআরবি কমার্শিয়াল ও মেঘনা ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি নাজুক
অব্যবস্থাপনায় ডুবতে বসেছে বর্তমান সরকারের সময়ে লাইসেন্স পাওয়া নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। মুনাফা করা দূরের কথা এসব ব্যাংকের দায় দিন দিন বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রতি বছরই তা উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। শুধু তাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দা থাকায় এবং প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে কিছু ব্যাংক আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া এসব ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালে। অথচ কার্যক্রম শুরু করার মাত্র চার বছরের মাথায় খেলাপি ঋণের কবলে পড়েছে ব্যাংকগুলো। এতে আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৬৪ কোটি টাকা। যা আগের প্রান্তিক জুনে ছিল ৭১৩ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৫১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে ফারমার্স ব্যাংকের। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৭৮ কোটি টাকা। ফারমার্স ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর নেতৃত্বাধীন ২০ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন একেএম শামীম। মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সহধর্মিণী ড. সিতারা আলমগীরও ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন কিছুদিন। এরই মধ্যে কয়েক ধাপে ফারমার্স ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, গুলশান, মতিঝিল, শ্যামপুরসহ বেশ কয়েকটি শাখায় বড় ধরনের ঋণ অনিয়ম বেরিয়ে এসেছে। এতে বিভিন্ন সময় ৫৫০ কোটি টাকার মতো অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে কারণে ব্যাংকের মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে ফারমার্স ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। একদিকে ঋণের অর্থ ফেরত আসছে না, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও তেমন একটা আমানত মিলছে না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, ব্যাংকটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যে আমানত সংগ্রহ করেছে, তা ফেরত দেয়ারও ক্ষমতা নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ফারমার্স ব্যাংক পুরো ব্যাংক খাতে ‘পদ্ধতিগত ঝুঁকি’ (সিস্টেমেটিক রিস্ক) তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, নতুন আসা কয়েকটি ব্যাংক অনিয়মে জড়িয়েছে। অনিয়মের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঋণ অনিয়মের কারণে ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেক বেড়েছে। ৩৭৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ, নিঃসন্দেহে একটি নতুন ব্যাংকের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তারমতে, ফারমার্স নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। মন্দ ঋণের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। ব্যাংকটির ১৯৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। যা আগের প্রান্তিকে ছিল ১৯২ কোটি টাকা। এ ব্যাংকের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী। ব্যাংকটির এমডির দায়িত্বে আছেন দেওয়ান মুজিবুর রহমান। ঋণ অনিয়ম এবং আমানতকারীদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার দায়ে যে কোনো সময় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ শুনানি শেষে বর্তমানে দেওয়ান মুজিবুর রহমানের ভাগ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে ঝুলে আছে। খেলাপি ঋণের তৃতীয় শীর্ষস্থানে রয়েছে মেঘনা ব্যাংক। নতুন সব ব্যাংকের আগে ব্যাংকটি খেলাপি ঋণের জালে ঢুকে। এরপর থেকে ক্রমশই বাড়া ছাড়া আর কমেনি মন্দ ঋণ। গত তিন মাসে মেঘনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০০ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হারে নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবার শীর্ষে ব্যাংকটি। চলতি বছরে ৯ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৭ গুণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে জানা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেঘনা ব্যাংক ২ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ১৫২ কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ৫৫ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭৬ শতাংশ। এছাড়া গত ডিসেম্বরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২১ কোটি টাকা। এ হিসাবে ৯ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬২৩ শতাংশ।

মেঘনা ব্যাংকের নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও রংপুরের সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান। ব্যাংকটির এমডির দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ নুরুল আমিন। তবে ঋণ বিতরণ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর তার পদত্যাগ কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এনআরবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫২ কোটি, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৪৬ কোটি, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ১৫ কোটি এবং মধুমতি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৪ কোটি টাকা।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• এনআরবিসির চেয়ারম্যান ও এমডি পদে পরিবর্তন
• ব্যাংক-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে
• ফারমার্স ব্যাংকের এমডিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তলব
• ঋণ অনিয়মে বাচ্চু সরাসরি জড়িত
• পাওনা শোধে গড়িমসি আইসিবি ব্যাংকের
• আরও নতুন তিন ব্যাংক!
• সৌদিকে ছাড়িয়ে রেমিট্যান্সের শীর্ষে আরব আমিরাত
• বাংলাদেশ ব্যাংককে মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড়াতে হবে
• ঋণ বিতরণে স্থবিরতার আশঙ্কা
• এমডিদের পদ রক্ষায় কাজে আসছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুরক্ষানীতি
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters