Hawker.com.bd     SINCE
 
 
 
 
চার বন্দর নিয়ে বৈঠক আজ [ শেষের পাতা ] 26/04/2018
চার বন্দর নিয়ে বৈঠক আজ
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর, বেনাপোল এবং ভোমরা স্থল বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে ৭ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই বন্দরগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার, সার্বক্ষণিক অফিস খোলা রেখে পণ্য হ্যান্ডলিং স্বাভাবিক রাখতে অংশীজনদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় মনিটরিং কমিটির সভা বসছে আজ। অপরদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নে ২৪ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আজ দুপুরে নৌ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই চারটি বন্দরের অংশীজনদের নিয়ে জাতীয় মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। নৌ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবদুস ছাত্তার স্বাক্ষরিত পত্রে এই সভায় অংশ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সভার আলোচ্য সূচিতে সরকারের ৭ উদ্যোগ সম্পর্কে বলা হয়, এক. চট্টগ্রাম, মোংলা, বেনাপোল ও ভোমরা বন্দর সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখে কার্যক্রমের গতিশীলতা বাড়ানো নিশ্চিত করা হবে। দুই. সব প্রকার কর পরিশোধের পর ২৪ ঘণ্টা অফিস খোলা রেখে কাস্টমস দ্রুত তাদের রেকর্ডপত্র ছাড় নিশ্চিত করবে। তিন. এই চার বন্দরের নিলামযোগ্য মালামাল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। চার. কর পরিশোধের সুবিধার্থে বন্দর এলাকায় ব্যাংকের শাখাসমূহ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। পাঁচ. অন্য সরকারি বিভাগ কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মত্স্য, বিএসটিআই, আণবিক শক্তি কমিশনসমূহের ছাড়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। ছয়. মালামাল ছাড়করণের জন্য ডেলিভারি অর্ডার প্রাপ্তির পর বন্দর পোর্টচার্জ আদায় করে মালামাল খালাস করতে চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। সাত. বন্দর থেকে মালামাল খালাসের পর ২৪ ঘণ্টাই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রণীত অ্যাকশন প্ল্যান পর্যালোচনা সভা হয় গত ২৮ মার্চ। ওই সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠানো হয় গত ৫ এপ্রিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১ মো. আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই কার্যপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ২৪টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ওই সভায় এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অপরিহার্য। এই বন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সময়ের দাবি। দেশের উন্নয়নের ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও বিশ্বমানের সেবা প্রদানের বিকল্প নেই। এই বন্দরের কর্মদক্ষতার ওপর বাংলাদেশের জাতীয় আয় অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই বন্দরের গতিশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই ২৪টি সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, ১. চট্টগ্রাম বন্দর ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব সরকারি— বেসরকারি সংস্থা ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা। ২. পতেঙ্গা ও লালদিয়া টার্মিনাল অতিসত্ব্বর চালু করা। ৩. বন্দরের উন্নয়নে ও সেবা সম্প্রসারণ কাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যে দৃশ্যমান করা। ৪. শুল্ক বিভাগের জন্য আধুনিক ও দ্রুততর স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহ করা। ৫. চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য স্বল্পতম সময়ে সরঞ্জামাদি ক্রয় করা। ৬. মালামাল আসার ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্য শুল্ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা। ৭. বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য বন্দরকে জমি বরাদ্দ দেবে ভূমি মন্ত্রণালয়। ৮. বন্দরের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণের বিষয়ে এক মাসের মধ্যে জানাবে নৌ মন্ত্রণালয়। ৯. কনটেইনার পরিবহনের জন্য ডাবল রেলওয়ে ট্রাক স্থাপন করতে পরামর্শক নিয়োগ। ১০. আমদানি-রপ্তানি কাজে আগামী ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রক্ষেপণ করবে এফবিসিসিআই। ১১. এক মাসের মধ্যে লাইটার জাহাজের সংখ্যা বাড়াতে প্রক্ষেপণ করবে নৌ-পরিবহন অধিদফতর। ১২. আমদানি পণ্য খালাসে স্বল্প সময়ের মধ্যে কেমিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট দিতে হবে। ১৩. লাইটার জাহাজকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার বন্ধে চার সপ্তাহের মধ্যে কর্ম-পরিকল্পনা দাখিল করবে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়। ১৪. ২০১৯ সালের মধ্যে পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনালের শতভাগ ধারণক্ষমতা ব্যবহার নিশ্চিত করা। ১৫. বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত করা। ১৬. আমদানি-রপ্তানির সব লেনদেন ই-ক্যাশে করা হবে। ১৭. বন্দর কর্তৃপক্ষ অ্যাক্ট বাংলায় রূপান্তর করা। ১৮. কৃষি মন্ত্রণালয় ফুমিগাশন কার্যক্রম স্বল্পতম সময়ে করা। ১৯. বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে নেওয়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তিন মাস পর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো। ২০. কার্গো তিন দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা ২১. বেসরকারি আইসিটিগুলোকে বন্ডেড ওয়্যার হাউস ব্যবস্থায় আনার উদ্যোগ নেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ২২. বন্দর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে কার্গো খালাস সমস্যা সমাধান করা। ২৩. বন্দরের কাজ সুষ্ঠুভাবে সমাধান করতে মনিটরিং টিম গঠন করা। ২৪. চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্ম-পরিকল্পনা স্বল্পমেয়াদি, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি তিন ভাগে বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters