[ ] 02/03/2017
 
সেই মোরাতুয়ায় আজ আরেক বাংলাদেশ
এই মোরাতুয়ার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৯৮৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর টস করতে নেমেছিলেন লিপু। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে টস তো অনেকেই করতে নেমেছেন। তবে সেই দিনটা ছিল বিশেষ। কারণ সেই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। এই মোরাতুয়ায় শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস।

এরপর কলম্বো সমুদ্রেও অনেক অনেক পানি গড়িয়েছে, পদ্মায়ও অনেক সে াতের বদল হয়েছে। অনেক হাত বদলে লিপুর উত্তরসূরী এখন মুশফিক-মাশরাফি। এতকাল পর এসে সেই বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডের ভেন্যুতে আজ আবারো টস করতে নামবেন মুশফিকুর রহিম। এবার আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়, এবার শ্রীলঙ্কা সফরের শুরুর অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এবার আর সে দিনের মতো নবীশ একটা দল নয়, শ্রীলঙ্কা জয়ের আশায় যাওয়া একটা দলকে দেখবে মোরাতুয়া।

গল টেস্ট শুরুর আগে আজ থেকে শ্রীলঙ্কান কোনো একটা দলের সঙ্গে দুই দিনের অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। গতকাল বিকেল পর্যন্ত অনুশীলন ম্যাচের প্রতিপক্ষ দলটার নাম জানায়নি এসএলসি। বাংলাদেশের জন্য এটা হবে নিজেদের একাদশ ঠিক করে নেওয়া ও শ্রীলঙ্কান পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ম্যাচ।

একাদশ নিয়ে একটা বড় অনুশীলন আজ শুরু করতে হবে। যেহেতু মুশফিকুর রহিম টেস্টে কিপিং করবেন না, এই ম্যাচ থেকেই উইকেটের পেছনে তার জায়গাটা নেবেন হয়তো লিটন দাস। সে ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হলে সাব্বির রহমান রুম্মনকে বাইরে থাকতে হবে। আর অস্বীকৃত ম্যাচ হলে হয়তো সকলেই ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া পেস বোলারদের মধ্যে কাকে বাইরে রাখা হবে, সেটাও যাচাই করে নেওয়ার একটা সুযোগ। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের নতুন একটা যুগ শুরু করার ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কান কোচ নিজেই বলেছেন, বাংলাদেশ এখন নব্বইয়ের শ্রীলঙ্কার মতো একটা যুগসন্ধিক্ষণে আছে, ‘আমি যখন শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলতাম, তখন আমাদের পরিস্থিতি ঠিক আজকের বাংলাদেশের মতো ছিলাম। আমরা একটা শিক্ষা পর্বের ভেতর দিয়ে গেছি এবং নব্বই দশকের মাঝামাঝি এসে বদলটা শুরু হয়। আমি বলবো, বাংলাদেশ ঠিক সেই বদলের সময়টায় দাঁড়িয়ে আছে।’

শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ তার সাবেক গুরুর সঙ্গে একমত। তিনিও বললেন, এই বাংলাদেশ দল এর আগে শ্রীলঙ্কা সফর করা যে কোনো দলের চেয়ে শক্তিশালী, ‘বাংলাদেশের যতগুলো দল শ্রীলঙ্কায় এসেছে, আমি বলব তার মধ্যে এই দলটাই সেরা। কিছু দিন আগে তারা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। যদিও সামপ্রতিক সময়ে তারা নিউজিল্যান্ড ও ভারতের কাছে হেরেছে।’

সর্বশেষ ২০১৩ সালে যখন বাংলাদেশ সফর করেছিল  শ্রীলঙ্কায়, তখনই গল টেস্ট ড্র করার ভেতর দিয়ে নতুন যুগের বার্তা দিয়েছিলেন মুশফিকরা। হেরাথ বলছেন, সেখান থেকেই তারা বদলটা দেখতে পেয়েছেন, ‘২০১৩ সালে আমাদের এখানে সফরে এসেছিল বাংলাদেশ। সেটা দুর্দান্ত একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ ছিল। সে যাত্রা আমাদের জিতে যাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার ছিল। ওই সফরেরও কিছু খেলোয়াড় এখনও তাদের হয়ে খেলছে। আমার ধারণা এবার তারা আরো শক্ত লড়াই করবে।’

হেরাথের এই ধারণার স্বপক্ষে আরো যুক্তি আছে। এক ঝাঁক শ্রীলঙ্কান সাপোর্ট স্টাফ নিয়ে এবার সফরে আসা বাংলাদেশ যে স্বাগতিকদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানে, সেটাই মুশফিকদের এগিয়ে রাখবে বলে তার ধারণা, ‘ওদের দেশে এত বেশি শ্রীলঙ্কান খেলছেন যে আমাদের দল ও খেলা নিয়ে ওদের একটা ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। ওরা তিনজনই বাংলাদেশের জন্য দারুণ কাজ করে যাচ্ছে, বিশেষ করে হাথুরুসিংহে। এ কারণেই আমি বলছি, এই সিরিজটি হবে আমাদের জন্য দারুণ চ্যালেঞ্জিং। অন্য কোচদের চেয়ে আমাদের সম্পর্কে ওদের ধারণা বেশি।’