[ শিল্প বাণিজ্য ] 19/03/2017
 
পোশাকখাতের শৃংখলায় আলাদা আইন চান শিল্প মালিকরা
গার্মেন্টস খাতের শৃঙ্খলার স্বার্থে আলাদা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ খাতে কিছু গণ্ডগোল হয়েছে। আমাদেরও কিছু অবহেলা ছিল। শ্রমিকপক্ষসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষেরও ছিল। এমন একটি আইন করা হোক, যে আইন শ্রমিক-মালিক উভয়ে মানবে। তাতে এ খাতে শৃঙ্খলা আসবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘জব ফেযারের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তিনি গার্মেন্টস খাতের জন্য শ্রমিকদের একক ফেডারেশন গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমানে গার্মেন্টস খাতকে ঘিরে বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশন কাজ করছে। খাতভিত্তিক একটি শ্রমিক ফেডারেশন থাকলে সমস্যা সমাধান সহজ হয়। এ সময় এনবিআরের হয়রানির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুল্ক কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের হয়রানি করছে। পদে পদে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। কাস্টমসের হয়রানি থেকে আমাদের মুক্তি দিন। এ নিয়ে অনেক কথা আগে বলা হয়েছে, আমরা চুপ করে হজম করেছি। কিন্তু এখন আর করবো না। এর থেকে পরিত্রাণের প্রয়োজন।

ব্যাংকের ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরির দায়ও ব্যবসায়ীদের নিতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ শতাংশহারে ঋণের সুদ নিচ্ছে। অথচ যারা চুরি করছেন, তাদের ধরা হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ওপর চাপ কমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এনবিআরকে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউ যদি বলে গার্মেন্টস খাত কর দেয় না কিংবা ২৭৯ কন্টেইনার পোশাক রপ্তানির টাকা দেশে না আসে, তার তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু একজনের জন্য সবাইকে ঢালাওভাবে দায় দেয়া ঠিক না। ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী গার্মেন্টস খাতে ট্রেড ইউনিয়নের দাবিতে স্বোচ্চার থাকা বিদেশীদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদেশীরা কারখানা দেখে খুবই প্রশংসা করেন। আবার বাইরে বক্তৃতায় বলেন, শ্রমিক অধিকার নেই। একটি দেশে ট্রেড ইউনিয়ন ৭ শতাংশ অথচ তারা বাংলাদেশে শতভাগ ট্রেড ইউনিয়ন চায়। এভাবে কম্বোডিয়া শেষ হয়ে গেছে। ভারতে গিয়ে এ ধরণের কথা বলার চেষ্টা করেছিল, তারা বের করে দিয়েছে।  অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, অর্থ সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জব ফেয়ারে চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় :

বিজিএমইএ আয়োজিত জব ফেয়ারে চাকরি প্রার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই ফেয়ারের মাধ্যমে অন্তত এক হাজার ব্যক্তিকে গার্মেন্টস খাতে চাকরি দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে গার্মেন্টসের শ্রমিকরাই চাকরি পাবেন। এছাড়া কারখানার মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার কিছু চাকরিও দেয়া হচ্ছে। ফেয়ারে মোট ৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।