[ প্রথম পাতা ] 17/04/2017
 
বিটিআরসির সুপারিশ চেয়েছে মন্ত্রণালয়
ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে জানতে চেয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এতে সেবাটির মূল্য-সম্পর্কিত বিভিন্ন উপকরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গতকাল এ তথ্য জানান।

তারানা হালিম বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমাতেই হবে। এজন্য কী করতে হবে, তা ঠিক করবে বিটিআরসি। ইন্টারনেটের বর্তমান দামের যৌক্তিকতা নিয়ে বিটিআরসির কাছে জানতে চেয়েছি। বিটিআরসির জবাবের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি তৈরি হবে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর পদক্ষেপও নেয়া হবে এ সুপারিশের ভিত্তিতেই।

ব্যান্ডউইডথের দাম ২০০৮ সালেও ছিল ২৭ হাজার টাকা। সেখান থেকে তা কমিয়ে ৬২৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে আরো বেশকিছু ব্যয় যুক্ত হয়। তবে গ্রাহকের কাছে সেবাটি পৌঁছে দিতে এসব ব্যয়ের যথার্থতা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এরই মধ্যে ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণে কস্ট মডেলিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। তবে এর জন্য সময় প্রয়োজন। এজন্য সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে বিটিআরসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডকে (বিএসসিসিএল) চিঠি দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এতে আমদানি মূল্যের চেয়ে কম দামে ইন্টারন্যাশনাল টিরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিএসসিসিএল ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করতে পারবে কিনা তা জানত চাওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কতটা কম দামে আইটিসিগুলোকে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা যায়, তা বিশ্লেষণ করে দেখতে বলা হয়েছে। ব্যান্ডউইডথের আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি আইটিসিগুলো যেন প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বিএসসিসিএল থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে পারে, সেজন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তারানা হালিম বলেন, দেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আইটিসি লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল সাবমেরিন কেবলের বিকল্প সংযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। কোনো কারণে সাবমেরিন কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আইটিসির মাধ্যমে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি আমরা।

প্রধানমন্ত্রী আগামী মাসে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের উদ্বোধন করবেন আশা প্রকাশ করে তারানা হালিম বলেন, বিকল্প সংযোগ হিসেবে কাজ করবে এটি। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ আইটিসিগুলোকে সরবরাহ করা যেতে পারে। এজন্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে তাদের কাছে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বিএসসিসিএলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমদানি করা ব্যান্ডউইডথের চেয়ে কম মূল্যে সরবরাহ করা হলেই আইটিসিগুলো বিএসসিসিএলের কাছ থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে আগ্রহী হবে।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে ব্যান্ডউইডথের চাহিদা প্রায় ৪০০ জিবিপিএস। সাবমেরিন কেবল ও ইন্টারন্যাশনাল টিরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) সংযোগের মাধ্যমে এ ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সাবমেরিন কেবল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) সরবরাহ করছে ১৩০ গিগাবিটস পার সেকেন্ড (জিবিপিএস)। আইটিসি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশন্স ১০০ জিবিপিএস, ফাইবার অ্যাট হোম ৮০ জিবিপিএস, ওয়ান এশিয়া ৪০ জিবিপিএস ও অন্য তিনটি আইটিসি প্রায় ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে। আইআইজি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিএসসিসিএল ও আইটিসির কাছ থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনে তা বিক্রি করছে সেলফোন অপারেটর, আইএসপি, পিএসটিএন ও ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে।

বর্তমানে আইটিসিগুলো বিটিআরসির অনুমতিসাপেক্ষে নিজেদের ব্যবহূত ব্যান্ডউইডথের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বিকল্প হিসেবে বিএসসিসিএল থেকে কিনতে পারে। এ সীমা তুলে দেয়ার ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছে মন্ত্রণালয়।

নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতে ২০১২ সালে ছয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আইটিসি লাইসেন্স দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো স্থলভাগ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের বিকল্প সংযোগ ব্যবস্থা তৈরি করেছে। ভারতের স্থলভাগ দিয়ে মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে একাধিক সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে এ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বিএসসিসিএল ও আইটিসিগুলো ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছে।