[ ] 16/04/2017
 
আইটিসিগুলোর কাছে কম দামে ব্যান্ডউইডথ বিক্রির উদ্যোগ
আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সাবমেরিন কেবল কোম্পানির (বিএসসিসিএল) হাতে অলস পড়ে থাকা ব্যান্ডউইডথ বিক্রি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিএসসিসিএল থেকে ব্যান্ডউইডথ কেনার সুযোগ এতদিন ধরে থাকলেও শর্ত থাকায় তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছিল না আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) অপারেটরগুলো।  

বাংলাদেশের ছয়টি আইটিসি অপারেটর প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে প্রতিবেশী ভারত থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনে দেশে সরবরাহ করছে।

আইটিসি অপারেটরদের নিজেদের ব্যবহৃত ব্যান্ডউইডথের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ব্যাকআপ হিসেবে বিটিআরসির অনুমতি সাপেক্ষে বিএসসিসিএল থেকে সরাসরি ব্যান্ডউইডথ কিনতে পারে।

এখন সেই সীমা উঠিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আইটিসিগুলো প্রতিযোগিতামূলক দামে যেন বিএসসিসিএল থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে পারে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিএসসিসিএল ও টেলিযোগাযোগ নিয়ণ্ত্রক সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

“কত কম দামে আইটিসিগুলোকে ব্যান্ডইউডথ সরবরাহ করা যেতে পারে সে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটমককে বলেন, “ব্যান্ডউইডথ আমদানিতে যে পরিমাণ খরচ হয় তার চেয়ে কমদামে আইটিসিগুলো যেন বিএসসিসিএলের ব্যান্ডইউডথ পায়, সে ধরণের একটি নির্দেশনা পেয়েছি। এ বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।”

সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ব্যাকআপ হিসেবে ব্যান্ডউইডথ কেনার সীমা উঠিয়ে নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি খতিয়ে দেখছে বলে জানান মনোয়ার।

“এই সীমাবদ্ধতা থাকায় কোম্পানিগুলো ব্যান্ডউইডথ কিনতে চাচ্ছে না, তাই এটি উঠিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।”

বর্তমানে বিএসসিসিএল তাদের ৩০০ জিবিপিএস-এর মধ্যে ২১২ জিবিপিএস বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ করছে।

মনোয়ার বলেন, সি-মি-ইউ-৫ বা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে আগামী মাস থেকে ২০০ জিবিপিএস কার্যকরি ব্যান্ডউইডথ যোগ হবে।

আইটিসিগুলোর ব্যান্ডউইডথ আমদানিতে যে খরচ হয়, দেশে থেকে এই ব্যান্ডউইডথ কিনতে খরচ বেশি পড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

আইটিসি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ব্যবহৃত ব্যান্ডউইডথের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ব্যাকআপ হিসেবে বিক্রির সিদ্ধান্তে আইটিসি অপারেটরদের কোনো লাভ হচ্ছে না।

বর্তমানে ছয়টি আইটিসি কোম্পানি আমদানি করে ২০০ জিবিপিএসের (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) বেশি ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে। এই হিসাবে একক কোনো আইটিসি কোম্পানি দুই থেকে তিন জিবিপিএসের বেশি ব্যান্ডউইডথ বিএসসিসিএল থেকে কিনতে পারে না।

ব্যান্ডউইডথ কেনার এই সীমা উঠিয়ে দিলে বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইডথ বিক্রি হওয়ায় আয় বাড়বে।

তবে ‘ভালো’ সার্ভিস পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সুমন।

“ব্যান্ডউইডথের দাম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, ব্যান্ডউইডথ কেনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ভালো সার্ভিসটিও গুরুত্বপূর্ণ।”