[ অর্থ বাণিজ্য ] 20/04/2017
 
আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে তৎপর চট্টগ্রাম বন্দর
সময়ের প্রয়োজনে নতুন নতুন বন্দর গড়ে ওঠার প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে তৎপর হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চলমান এবং গৃহীত প্রকল্পগুলো দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরকে বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চায় কর্তৃপক্ষ। সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে এবারই বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজন করতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো ‘পোর্ট এক্সপো বাংলাদেশ ২০১৭’। আগামী ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এ এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে, যা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৩০তম বন্দর দিবসকে সামনে রেখে হতে যাচ্ছে পোর্ট এক্সপো। পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত বন্দর এ ধরনের আয়োজন করে থাকে। কিন্তু এ অঞ্চলে চট্টগ্রাম বন্দরের মনোপলি রয়েছে বিধায় এতদিন সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কিন্তু দেশে আরও বন্দর গড়ে উঠছে। বিদ্যমান বন্দরগুলোর উন্নয়ন ঘটানোর কাজও চলছে। প্রতিবেশী মিয়ানমারের সিটওয়ে বন্দর ডেভেলপ করা হয়েছে ভারতের সহায়তায়। উদ্দেশ্য, এর মাধ্যমে ভারতের সাত অঙ্গরাজ্যকে সেবা প্রদান করা। অনেকদিন ধরেই চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে এ অঞ্চলে। প্রচারের মাধ্যমে এ বন্দরকে তুলে ধরার লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রথমবারের মতো এ ধরনের আয়োজনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (এ্যাডমিন এ্যান্ড প্ল্যানিং) মোঃ জাফর আলম জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা জানতে চান চট্টগ্রাম বন্দরের মার্কেটিং বিষয়ে। কিন্তু জবাবে আমাদের জানাতে হয় যে, এমন কোন বিভাগ বা কার্যক্রম আমাদের নেই। কিন্তু ক্রমবর্ধমান ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি এবং বর্তমান বাস্তবতায় বন্দরেরও মার্কেটিং থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছি। চট্টগ্রাম পোর্ট এক্সপোতে অংশগ্রহণ করবে বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের শতাধিক প্রতিষ্ঠান। আগামী ২৭ ও ২৮ এপ্রিল বন্দরের কারশেডে এ এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল, কর্ণফুলী কন্টেনার টার্মিনাল এবং বে টার্মিনালসহ বড় প্রকল্পগুলো দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বে টার্মিনালের ভূমি অধিগ্রহণকাজ এগিয়ে চলেছে। আগামী মে মাসের মধ্যে এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর শুরু হবে নির্মাণকাজ। বন্দরের উন্নয়নে প্রাইভেট সেক্টরকে সংশ্লিষ্ট করার পরিকল্পনাও রয়েছে। কারণ বেসরকারী সেক্টরে এখন প্রচুর পুঁজি রয়েছে, যা বিনিয়োগ হলে বন্দরের উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।