[ অর্থ-বাণিজ্য ] 24/05/2017
 
সম্ভাব্য সাইবার হামলা নিয়ে বিটিআরসির সতর্ক বার্তা
এস এম মামুন হোসেন :
দেশজুড়ে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের আশঙ্কায় সরকারিভাবে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা। বিটিআরসি এরই মধ্যে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করছে। এসব বার্তা পাওয়ার পর সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গত শনিবার থেকে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস এন্ড রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল ফোনের এসএমএস-এর মাধ্যমে একটি বার্তা প্রেরণ করতে শুরু করে। সেখানে বলা হয়েছে, 'অনতিবিলম্বে উইন্ডোজ ৮ ব্যবহারকারীরা ডাটা ব্যাকআপ করুন। উইন্ডোজ ১০ এবং আগের ভার্সনের জন্য মাইক্রোসফট ওয়েবসাইট হতে সিকিউরিটি পার্থ ডাউনলোড ও ইনস্টল করুন।'
এ বার্তা পাওয়ার পর দেশের সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেটে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ইমেইল, ফোন নাম্বারের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে না পাওয়ার কথাও জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে ঢুকে শনিবার কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নাম্বারসহ বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রোববার সে সব তথ্য আবার পাওয়া যায়।
বিটিআরসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে 'র‌্যানসমওয়্যার' নামের ক্ষতিকর সফটওয়্যারের আক্রমণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার সিস্টেমে হামলার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরানোসহ বিভিন্ন ঘটনার পর ফের বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা থেকে দেশের সব নাগরিককে সতর্কতামূলক এ বার্তা দিচ্ছেন তারা। বিটিআরসির পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ সফটওয়ারই যেহেতু পাইরেট সিস্টেমে ব্যবহৃত, তাই অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে এখানে হামলার ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশ্বব্যাপী সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধীরা যেহেতু তাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করছে এবং তাদের খুব কম ক্ষেত্রেই শনাক্ত করা যাচ্ছে তাই এ বিষয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপরেই বেশি জোর দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানটি।
বিটিআরসির সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন এ বিষয়ে যায়যায়দিনকে বলেন, 'যেকোনো সময় সারাদেশে সাইবার হামলার ঝুঁকি রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আলোকে বিষয়টি নিয়ে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে সকলকে বার্তা প্রেরণ করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আমরা সব মোবাইল অপারেটরকে এ বিষয়ে বার্তা গ্রাহকদের কাছে পেঁৗছে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সকলের কাছে বার্তা পেঁৗছে যাবে বলে আশা করছি।'
এ কর্মকর্তা আরো জানান, 'নির্দেশনা মোতাবেক উইন্ডোজ ব্যাকআপ করলে এবং সিকিউরিটি পাথ ঠিকমতো আপডেট রাখলে সাইবার হামলা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া উইন্ডোজ ব্যাকআপ করলে হারানো তথ্যও ফিরে পাওয়া যাবে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যাকআপ করার জন্য বিশেষভাবে বলা হয়েছে।'
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, 'বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাইবার ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময়ে আমাদের দেশে বড় ধরনের সাইবার হামলা হওয়া মোটেও অসম্ভব নয়। বিশ্বজুড়ে যে ধরনের সাইবার হামলা হচ্ছে তা যেকোনো সময়ে যেকোনো দেশে ঘটতে পারে। সম্প্রতি 'র‌্যানসমওয়্যার' দিয়ে যে হামলা হয়েছে তার অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা যেভাবে পাইরেট সফটওয়ার ব্যবহার করছি তা মুহূর্তের মধ্যে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।'
বিটিআরসি থেকে মাইক্রোসফটের নিরাপত্তার জন্য যে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক বলেন, 'মাইক্রোসফট হলো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সফটওয়ার। বাংলাদেশেরও ব্যবহৃত সফটওয়ারের বেশিরভাগই মাইক্রোসফট। এ কারণে হ্যাকারদের প্রধান টার্গেট থাকে এ সফটওয়ারটি। এটিকে চুরি করতে পারলে যেমন বিপুল তথ্য নষ্ট করা যায়, তেমনই ব্যাপকভাবে আর্থিক লাভেরও সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে হ্যাকারদের প্রধান টার্গেটেই থাকে মাইক্রোসফট।'
শরিফুল ইসলাম বলেন, অনলাইন ব্যবস্থার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এ কারণে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র দেশ হয়েও বার বার সাইবার হামলার মুখে পড়ছে। দেশজুড়ে সাইবার হামলার যে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করতে পাইরেট সফটওয়ার ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি নিয়মিত উইন্ডোজ আপডেট রাখা ও শক্তিশালী ও নতুন ভার্সনের এন্টি ভাইরাস নেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান এ তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক।