[ আয় ব্যয় ] 28/05/2017
 
প্রবাসী কর্মীদের বীমা বাধ্যতামূলক হচ্ছে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা নানা ধরনের অসুবিধায় পড়ে। দুর্ঘটনায় মৃত্যু, অঙ্গহানি ও চাকরি হারানোর মতো ঘটনায় তাদের সহায়তা করার জন্য নতুন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যেককে বীমা সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী জুন/জুলাই থেকে বিদেশে যারা চাকরি নিয়ে যাবে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে বীমা করতে হবে। এ জন্য একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নীতিমালাটি তৈরির কাজও প্রায় শেষ দিকে। খসড়া একটি নীতিমালা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে। এখন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।  

জানা গেছে, অনেকেই বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ে। কারো কারো চাকরি চলে যায়, কেউ বা আবার দুর্ঘটনায় মারা যায়, কারো আবার অঙ্গহানিও ঘটে। এ সময় তাদের সহযোগিতা করার জন্যই এই বীমা সুবিধা চালু করা হচ্ছে। লাইফ এবং নন-লাইফ দুই ধরনের বীমাই চালু হবে। বীমা করার জন্য যে প্রিমিয়াম জমা নেওয়া হবে সেটার পরিমাণ খুবই সামান্য হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নীতিমালাটি তৈরিতে কাজ করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজহারুল হক। এই কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য আমরা কাজ করছি। তাদের বীমা সুবিধার আওতায় আনতে একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। প্রবাসে যারা থাকে তারা বিভিন্ন সময়েই সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ সময় তাদের যাতে সহযোগিতা করা যায় সে জন্য বীমা সুবিধা চালু করা হচ্ছে, যেটি বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে করতে হবে। আগামী জুন/জুলাই থেকেই আশা করছি এই সুবিধাটি বাস্তবায়িত হবে। তখন থেকে যারা দেশের বাইরে যাবে তারা বীমা করে তারপর যাবে। ’

নীতিমালাটির কাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে জানতে চাইলে আজহারুল হক আরো বলেন, ইতিমধ্যে নীতিমালাটির খসড়ার ওপর বিভিন্ন মতামত নেওয়া হয়েছে। সেগুলো কমপাইল করার কাজ চলছে। এরপর অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সভা করতে হবে। তারপর চূড়ান্ত করা হবে। ’

জানা গেছে, যারা কোনো দুর্ঘটনায় মারা যাবে বা কোনো অঙ্গহানি হবে তাদের লাইফ ইনস্যুরেন্সের আওতায় এবং যাদের চাকরি চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটবে তাদের নন-লাইফ ইনস্যুরেন্সের আওতায় সুবিধা প্রদান করা হবে। তবে যারা দেশের বাইরে যাবে তাদের প্রিমিয়াম হিসেবে সামান্য পরিমাণ অর্থ এককালীন জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সহযোগিতায় নীতিমালাটি তৈরি করছে। জানতে চাআয় ব্যয়ইলে আইডিআরএর চেয়ারম্যান গকুল চাঁদ দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের বীমা সুবিধার আওতায় আনতে একটি নীতিমালা তৈরি করছে। সেখানে আমাদের মতামত চেয়েছিল। ১০-১২ দিন আগে আমরা আমাদের মতামত প্রদান করে সেটি মন্ত্রণালয়ে দিয়েছি। এটি খুব শিগগির বাস্তবায়িত হবে। ’

গকুল চাঁদ দাস আরো বলেন, ‘লাইফ ও নন-লাইফ এ দুটি ক্যাটাগরিতে বীমা করতে হবে প্রবাসীদের। যাওয়ার সময় এককালীন কিছু টাকা শুধু জমা নেওয়া হবে। এ টাকার পরিমাণ হতে পারে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকার মতো। আমরা আশা করছি প্রবাসীদের জন্য এটি একটি বড় ধররের সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে। ’

বর্তমানে কেউ চাকরি নিয়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলে তিন হাজার ৪০০ টাকা করে জমা দিয়ে যায়। কেউ যদি বিদেশে মৃত্যুবরণ করে তবে তার দাফনের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং এককালীন তিন লাখ টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া এ তহবিলের অর্থ থেকে অসচ্ছল প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।