[ Online ] 28/05/2017
 
দর্শনার সেই ভবন চালু হচ্ছে আজ
শাহ আলম, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ‘রডের বদলে বাঁশ’ ব্যবহারের ঘটনায় বহুল আলোচিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কার্যালয় ও পরীক্ষাগার ভবন’ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক হস্তান্তরের পর আজ রোববার নতুন এই ভবন চালু এবং সেখানে দাপ্তরিক কাজ শুরু হচ্ছে।

 ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকার মনিপুরিপাড়ার জয় ইন্টারন্যাশনাল বাঁশ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ওই প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করে। পরে ঢাকার মিরপুরের মাস্তুরা এন্টারপ্রাইজ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে। প্রকল্পের ব্যয় প্রথমে ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।

এদিকে এই ভবন নির্মাণের কাজসম্পন্ন হলেও দুদকের দায়ের করা মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কুষ্টিয়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল গাফ্ফার গতকাল শনিবার বলেন, তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে। কিছু আনুষ্ঠানিকতার পর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

 কর্মকর্তারা জানান, বিদেশ থেকে আমদানি করা কৃষিজাত পণ্যের মান যাচাই ও রোগবালাই পরীক্ষার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফাইটোসেনেটারি সামর্থ্য শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকারিভাবে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কার্যালয় ও পরীক্ষাগার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় ইন্টারন্যাশনাল। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। গত বছরের জুন মাসে ভবনটি হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ৬ এপ্রিল ‘রডের পরিবর্তে বাঁশ ও খোয়ার স্থলে সুরকি’ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় পর্যন্ত জয় ইন্টারন্যাশনাল ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা সমমূল্যের কাজ করে।

 এদিকে বাঁশ কেলেঙ্কারির ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন এবং তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক সাদেক ইবনে শামসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ তদারকি ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা মেরিনা জেবুন্নাহারকে ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মেরিনা জেবুন্নাহার বাদী হয়ে ১১ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জয় ইন্টারন্যাশনালের মালিক মণি সিং, ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সাত্তার, প্রকল্পের ক্রয় বিশেষজ্ঞ মো. আইয়ুব হোসেন ও প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেনকে আসামি করা হয়।

জয় ইন্টারন্যাশনালের মালিক মণি সিংকে গত বছরের ৬ মে ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদক। বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত আছেন।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। নতুন করে কাজ শুরুর দিন এবং গত ২১ মে ভবন হস্তান্তরের সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফাইটোসেনেটারি সামর্থ্য শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলীসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।