[ যাপিত সময় ] 14/06/2017
 
রোজা সুস্বাস্থ্যের জন্যও
রোজা পালনের ক্ষেত্রে অসুস্থ ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন। সারা মাস রোজা পালনে তারা আদৌ সমর্থ হবে কিনা অথবা রোজা পালনকালে তাদের ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিনা, আবার রোজা পালনের সময় ওষুধ কখন কীভাবে সেবন করবেন, নানা বিষয় নিয়ে তারা এক ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে থাকেন। রোজা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, না অপকারী, তা বিতর্কের বিষয় নয়। রোজা পালন স্বাস্থ্যের জন্য যে উপকারী, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অন হেলথ অ্যান্ড রামাদান’ সম্মেলনে গবেষকরা রোজা ও স্বাস্থ্য শিরোনামে প্রায় ৫০টি গবেষণামূলক প্রবন্ধে এর স্বপক্ষে তত্ত্ব ও তথ্য তুলে ধরেন।

কোলেস্টেরল ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রোজা : আবুধাবির একদল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভালো কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) মাত্রা বৃদ্ধি পায় আর খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা কমে আসে। ফলে রক্তনালিতে অপেক্ষাকৃত কম চর্বি জমা হয়। হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও এ ক্ষেত্রে হ্রাস পায়। গবেষকরা আরও দেখেছেন, রোজা রাখলে উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ : ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা হয় তিনভাবে। খাবার নিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খল জীবনাচারণ ও ওষুধের মাধ্যমে। রোজার মাধ্যমে খাবার নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খল জীবনযাপন করা হয় বলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। যাদের এখনো পুরোপুরি ডায়াবেটিস হয়নি কিন্তু হবে হবে করছে; রোজা পালনে তারা উপকৃত হবেন। রোজার মাধ্যমে যে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত হয়, তার প্রমাণ রোজার সময় ডায়াবেটিসের ওষুধের ডোজ কম লাগে।

স্মৃতিশক্তিবর্ধক : মার্কিন গবেষকরা রোজা নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন, রোজা রাখলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ : রোজা রাখলে শরীরের এনার্জি সরবরাহের জন্য চর্বি ভাঙে। চর্বির পরিমাণ কম হয় বলে রক্তনালিতে চর্বি জমতে পারে না। আবার স্থূলতার ভাব কমতে থাকে।

শরীরের ক্ষতিকর উপাদান দূরীকরণ : চর্বির মধ্যে শরীরের ক্ষতিকর টক্সিনগুলো জমা হয়। যেহেতু এনার্জির প্রয়োজনে চর্বি ভেঙে যায়, তাই টক্সিনগুলো দ্রবীভূত হয়ে কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে ক্ষতিকর অবস্থা থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

অবসাদ ও দুশ্চিন্তা কমায় : মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়। এটি মানসিক স্ট্রেস, অস্থিরতা, অবসাদের জন্য দায়ী। অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েকটি রোজা রাখার পর শরীরে এনডরফিন নামক হরমোনের মাত্রা বাড়ে, যেটি ভালো লাগার অনুভূতি দেয়।

খারাপ অভ্যাস দূর করে : ধূমপানের মতো বদঅভ্যাস দূর করতে রোজার মতো শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা আর নেই। আমেরিকান ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের গবেষণায় তা প্রমাণিতও।

লেখক : অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা