[ খেলার খবর ] 15/06/2017
 
ধৈর্য ধরুন, উপভোগ করুন:মাশরাফি
মিডিয়ার প্রভাব বলুন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উত্তেজনা বলুন বা পৃষ্ঠপোষকদের তৈরি করা হাইপ বলুন; এই ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের তুলনা হতে পারে কেবল লড়াইয়ে। ক্রিকেট ছাপিয়েও যেটা চলে যাচ্ছে অনেকদূর।

এই হাইপটা টের পাচ্ছে বাংলাদেশ দলও। টের পাচ্ছে এবং এড়িয়ে থাকার চেষ্টাও করছে। চাইলেই এড়িয়ে থাকা যায় না। তারপরও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা দলের খেলোয়াড় ও সকল সমর্থকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানালেন, এই সময়টায় সব হাইপ ভুলে গিয়ে ধৈর্য ধরার জন্য। আহ্বান জানালেন এমন একটা ম্যাচ উপভোগ করার জন্য।

দল যে এই উত্তেজনা টের পাচ্ছে না, এমন অমূলক দাবি মাশরাফি করলেন না। বরং গতকালকের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার বললেন, তারাও রোমাঞ্চিত। তবে সেই রোমাঞ্চকে পাশে রেখে স্রেফ আরেকটা ম্যাচ হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন তারা এই সেমিফাইনালকে, ‘ছেলেরা খুব এক্সাইটেড। আমরা আগে কখনো সেমিফাইনাল খেলিনি। ফলে উত্তেজনা অস্বাভাবিক নয়। এই ম্যাচের হাইপ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি সবাইকে বলেছি, এটাকে আরেকটা ক্রিকেট ম্যাচ হিসেবে ভাবার চেষ্টা করতে। সেমিফাইনাল না ভেবে, উত্তেজনাকে পাশে রেখে রিল্যাক্স ক্রিকেট খেলতে পারলেই ভালো ফল আসবে।’

এই ম্যাচ নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো থেকে শুরু করে মিডিয়ায় কথার লড়াই শুরু হয়ে গেছে। মাশরাফি বলছিলেন, তারা চাইলেও যেহেতু এটা বন্ধ করতে পারবেন না, তাই ওদিকে নজর কম দেওয়াই সেরা সমাধান, ‘এসব বিষয় আমাদের কন্ট্রোলে নেই। চাইলেই আমরা বন্ধ করতে পারি না। তাই বাইরে যা হচ্ছে, সেদিকে আমাদের নজর না দেওয়াই ভালো।’

মাশরাফি একটা ব্যাপার বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে, এই ধরনের ম্যাচ এখন বাংলাদেশকে আরও বেশি বেশি খেলতে হবে। ফলে এটাকে যত সহজে নেওয়া যাবে, ততোই অভ্যস্থ হয়ে উঠবে বাংলাদেশ, ‘আমাদের যদি উন্নতি করতে হয়, তাহলে এই ধরনের ম্যাচ নিয়মিতই সামনে খেলতে হবে। যত আমরা এগোবো, ততো বেশি ফাইনাল বা সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ আসবে। ফলে এটাকে সহজভাবে নিতে শিখতে হবে। আমাদের উপভোগ করাই বেস্ট।’

সেই উপভোগ করতে গিয়ে এটাকে আরেকটা সাধারণ ম্যাচের মতো দেখতে গিয়ে মাশরাফি ক্রিকেট নিয়ে কথা বলারও চেষ্টা করলেন। সেই চেষ্টায় মাশরাফির মনে হচ্ছে, এই এজবাস্টনের উইকেটে প্রচুর রান থাকবে। ফলে আগের দিনের একাদশই থাকবে কি না, সেটা নিশ্চিত করতে পারলেন না অধিনায়ক, ‘আগের দিন জিতেছি, তাই ওটাকে ভালো একাদশ মনে হয়েছে। আগামীকাল (আজ) কী একাদশ হবে, সেটা আমরা কাল সকালে বুঝতে পারবো। উইকেট যতদূর অনুমান করছি, রান হবে অনেক।’

কিন্তু ক্রিকেটে বেশি সময় থাকতে পারলেন না। আবার সেই ম্যাচের হাইপের বিষয় চলে এলো। সমর্থকদের কর্তব্য কী, এই প্রশ্নও উঠলো। সাদামাটা ভাষায় সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানালেন মাশরাফি, ‘আমরা সবসময় সেরা ক্রিকেটটা খেলার চেষ্টা করি। কখনো পারি, কখনো পারি না। আগামীকালও সেই চেষ্টাই করবো। ভালো ফল আশা করবো। আমরা চাইবো, আপনারা ধৈর্য ধরে খেলা দেখবেন এবং উপভোগ করবেন।’