[ খেলার খবর ] 15/06/2017
 
স্মরণীয়-বিতর্কিত দুই লড়াই
পরিসংখ্যান কিংবা ক্রিকেটীয় ইতিহাস - দু’দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ভারত। এই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিরও দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন এই দলটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট ম্যাচ আগের চেয়ে বেশি উত্তেজনাকর, আগের চেয়ে বেশি আমেজের। আর বাংলাদেশও তার ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় ও সবচেয়ে বিতর্কিত ম্যাচ দু’টি খেলেছে এই ভারতের বিপক্ষেই। চলুন আজকের সেমিফাইনালকে সামনে রেখে সেই ম্যাচ দু’টো একঝলক দেখে নেওয়া যাক।

গ্রুপ পর্বেই দৈত্য বধ (বিশ্বকাপ ২০০৭)

আক্ষরিক অর্থেই তারুণ্যে ভরপুর এক দলকে নিয়েই সেবার  বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। অধিনায়ক, ওপেনার জাভেদ ওমর বোলিম আর বাঁ-হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে বাদ দিলে তখনো কারো বয়সই ২৫ পেরোয়নি। আজকের কাণ্ডারি সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমরা তখন ক্যারিয়ারের শুরুতেই। এর আগের বিশ্বকাপে কেনিয়া-কানাডার মতো দলের বিপক্ষেও হেরে আসা বাংলাদেশের কাছ থেকে আশা ছিল সামান্যই।

সেই নবীন দলটা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হারিয়ে দিল গেলো আসরের রানারআপ ভারতকে। সেই ভারতীয় দলটা ছিল একঝাঁক তারকায় ঠাসা। সৌরভ গাঙ্গুলি, বীরেন্দ্র শেবাগ, শচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি, জহীর খান - কে ছিল না সেই দলে। তারকাখচিত ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ বাংলাদেশের ‘স্পিন-ত্রয়ী’ নামে তখন পরিচয় পেয়ে যাওয়া সাকিব, রাজ্জাক, রফিক আর দুই পেসার মাশরাফি ও সৈয়দ রাসেলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। ১৯১ রানেই অলআউট হয়ে গিয়েছিল তারা। নয় বল আর পাঁচ উইকেট হাতে রেখে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। জহীর খানের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে তামিম ইকবালের সেই বিখ্যাত ছক্কার প্রসঙ্গ এখনো ঘুরে ফিরেই আসে। তামিমের সাথে সেই ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানও। পরের ম্যাচেই অবশ্য বাংলাদেশ ১৯৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল। তবে বারমুডার বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে সাত উইকেটের বড় জয় নিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের বাধা টপকেছিল। এরপর সুপার এইটে গিয়েও হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মত পরাশক্তিকে।

শেষ আটের রোমাঞ্চ (বিশ্বকাপ ২০১৫)

বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সাফল্যের নেপথ্যে আছে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেবার প্রথমবারের মতো কোনো আইসিসি ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। চার বছর আগে দেশের মাটিতে যারা প্রথম পর্ব পেরোতে পারেনি, তাদের এবারো পারার কথা নয় - এমনটাই ভেবেছিল সবাই।

কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিল মাশরাফি বিন মুর্তজার বাংলাদেশ। পেসার মাশরাফির সাথে রুবেল হোসেন আর তাসকিন আহমেদের পেস আক্রমণ সমীহ আদায় করতে শুরু করলো। আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অনুমিত জয়ের সাথে যোগ হয় ইংল্যান্ড-বধের সুখস্মৃতি। এর সাথে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায় বাংলাদেশ।

 কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। খালি চোখে সেই ম্যাচটা একতরফাই ছিল। মেলবোর্নে ভারত বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ১০৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। ব্যাটিং কিংবা বোলিং - কোনো বিভাগেই বাংলাদেশ নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। তবে, ম্যাচটিতে আম্পায়ারদের বেশ কয়েকটা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বলি হতে হয় বাংলাদেশকে।

 রোহিত শর্মার বিপক্ষে রুবেল হোসেনের বলটা আদৌ ‘নো’ ছিল কী না সেটা নিয়ে সেই ম্যাচের পর অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়। এমনকি মোহাম্মদ শামির বলে শিখর ধাওয়ানের হাতে আগের দুই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যাচ আউটের সিদ্ধান্তও ‘বৈধ’ কী না সেটা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন।

বাংলাদেশ—ভারত

ম্যাচ

n দলীয় সর্বোচ্চ রান

বাংলাদেশ      :     ৩০৭/১০ (ঢাকা, ২০১৫)

ভারত           :     ৩৭০/৪ (ঢাকা, ২০১১)

n ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান

বাংলাদেশ       :      ৫১৭ (মুশফিকুর রহিম)

ভারত            :      ৫৯২ (গৌতম গম্ভীর)

n ব্যক্তিগত সেরা ইনিংস

বাংলাদেশ       :      ১১৭ (মুশফিকুর রহিম)

ভারত            :      ১৭৫ (বীরেন্দর শেবাগ)

n ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ উইকেট

বাংলাদেশ       :      ২০ (মাশরাফি বিন মুর্তজা)

ভারত            :      ১৬ (অজিত আগারকার)

n ব্যক্তিগত সেরা বোলিং

বাংলাদেশ       :      ৬/৪৩ (মুস্তাফিজুর রহমান)

ভারত            :      ৬/৪ (স্টুয়ার্ট বিনি)

n সর্বোচ্চ ডিসমিসাল

বাংলাদেশ       :      ২১ (মুশফিকুর রহিম)

ভারত            :      ২৭ (এমএস ধোনি)

n সেরা জুটি

বাংলাদেশ       :      ১৩৩ (এনামুল-মুশফিক; ৩য়)

ভারত            :      ২১৩ (কোহলি-রাহানে; ৩য়)