[ আরও খবর ] 06/04/2018
 
প্রতারণা-হয়রানি ঠেকাতে বিমানের নতুন উদ্যোগ
হজযাত্রীরা এবার যেন কোনো বিড়ম্বনা বা হয়রানির শিকার না হন, এ লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগে হজযাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিমানের টিকিটের টাকা সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিতে জমা রাখার নিয়ম ছিল। এবার যাত্রীর কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পর এজেন্সিকে নিবন্ধনের সময়ই বিমানের টিকিটের টাকা অগ্রিম দিতে হবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ফলে এবার আর টিকিটের জন্য হয়রানি বা ধরনা দিতে হবে না হজযাত্রীকে।
এদিকে ওই উদ্যোগকে হজযাত্রীরা ইতিবাচক জানালেও দ্বিমত পোষণ করেছে হজ এজেন্সি অব বাংলাদেশ (হাব)। আগের নিয়মেই নিজ নিজ এজেন্সির কাছে টাকা গচ্ছিত রাখা এবং তাদের মাধ্যমেই টিকিটের টাকা পরিশোধের দাবি করেছে হাব। হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম আমাদের সময়কে বলেন, আগের যে নিয়মে যাত্রীদের টিকিট কনফার্ম করা হতো, আমরা ওই প্রক্রিয়ায় এবারও হজযাত্রীদের টিকিট কনফার্ম করতে চাই। বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি হজ মৌসুমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬৪ হাজার ৫০০ হজযাত্রী পরিবহন করবে। প্রথম ফ্লাইট উড়বে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। এবার সৌদি আরব যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে প্রতি টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬৫০ টাকা। যাত্রীরা এ টাকা এতদিন জমা দিতেন সংশ্লিষ্ট এজেন্সিতে। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নয়-ছয় করত কিছু অসাধু এজেন্সি। টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হতেন। দিনের পর দিন তাদের থাকতে হয়েছে হজক্যাম্পে। এজেন্সিগুলোর গাফিলতিতে অনেক হজযাত্রী বাদ পড়তেন শেষ পর্যায়ে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। এসব কারণেই এবার নিবন্ধনের সময়ই সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছ থেকে তাদের নির্দিষ্ট যাত্রীর বিমানের টিকিটের টাকা অগ্রিম জমা নেওয়া হবে। যারা টাকা পরিশোধ করবেন না, তাদের টিকিট কনফার্ম করা হবে না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ আমাদের সময়কে বলেন, হজযাত্রীরা যেন টিকিটের কারণে কোনো বিড়ম্বনার শিকার না হন, এ লক্ষ্যে বিমানের পক্ষ থেকে এবার নতুন ওই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগের হজ মৌসুমগুলোয় এজন্সিগুলো বিমানের টিকিটের টাকা পরিশোধ করত। এবার প্রত্যেক যাত্রীর টিকিটের জন্য শতভাগ অগ্রিম টাকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। তবেই মিলবে কনফার্ম টিকিট। ওই প্রক্রিয়ায় হজযাত্রীদের বিড়ম্বনার শিকার হবেন না। টিকিটের টাকার জন্য বিমানকেও আর কারো কাছে ধরনা দিতে হবে না।