[ যাপিত সময় ] 14/04/2018
 
স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার যত কারণ
স্ট্রোক মানে নিশ্চিত মৃত্যু না হলেও মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া। কারণ এ রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কে রক্তচলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো মরতে শুরু করে। এ কারণে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা দেখা দেয়। মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে, স্ট্রোকের ঝুঁকিও তত বেড়ে যায়। ধারণা করা হয়, অতীত স্ট্রোকের ইতিহাস স্ট্রোকের জন্য দায়ী। শুধু ইতিহাস নয়, স্ট্রোক হওয়ার আরও কিছু কারণ রয়েছে। স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হলো স্ট্রেস। দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত কাজের চাপ মানুষকে স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যায়। দুশ্চিন্তা জীবন থেকে সরিয়ে দিতে পারলে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা অনেকখানি কমে যায়।
স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হলোÑ উচ্চ রক্তচাপ। অতিরিক্ত চিন্তার কারণে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, রক্তচাপ ওঠানামা করছে। রক্তচাপের প্রকৃতির এ ধরনের তারতম্য হলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। রক্তচাপ সাধারণত ১২০/৮০ বা ১৪০/৯০-এর নিচে রাখার চেষ্টা করতে হবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খেতে হবে (দিনে ১৫০০ মিলিগ্রামের বেশি নয়)। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কাপ ফল এবং সবজি খাদ্যতালিকায় রাখলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম না করার কারণেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। স্ট্রোকের আরেক কারণ ধূমপান। এটি ফুসফুস নষ্ট করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিসের কারণে বেড়ে যায় স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি।
তাই ফাস্টকে জানুন। অধিকাংশ মানুষ স্ট্রোকের প্রাথমিক কারণ বুঝতে পারে না। ফলে সময়মতো চিকিৎসার অভাবে হারাতে হয় প্রাণ। এ ক্ষেত্রে ফাস্টকে মনে রাখুন। ঋ=ঋধপব (মুখ) আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে হাসতে বলুন। হাসতে সমস্যা হলে বা হাসার সময় মুখের একাংশ বাঁকা হয়ে এলে এবং অপর অংশ শক্ত হয়ে আছে দেখলে স্ট্রোকের আশঙ্কা বেশ প্রবল। অ=অৎধস (বাহু) দুহাত মাথার ওপর উঁচু করে তুলতে বলুন। এতে যদি তার কষ্ট হয় এবং দুহাত বা যে কোনো এক হাতে ব্যথা লাগে, তবে স্ট্রোকের আশঙ্কা রয়েছে। ঝ=ঝঢ়ববপয (কথা বলা) আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাধারণ একটি বাক্য বলতে বলুন। যদি কথাটি বলতে তার সমস্যা হয় বা কথা জড়িয়ে যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ঞ=ঞরসব (সময়) এ লক্ষণগুলো যে কোনো একটি দেখা দিলে তাকে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।